১৩ নভেম্বর, ২০১৫ ১৫:১১
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি নূর হোসেনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ১১ মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট বা সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভারত থেকে ফেরানো নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে হাজির করা হলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালত এ নির্দেশ দেন। এসময় তার পক্ষের কোনো আইনজীবী আদালতে ছিলেন না। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ৩০ জনেরও অধিক আইনজীবী।
শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) জুমার নামাজের পর বেলা ২টা ৩৩ মিনিটে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন থেকে তাকে সরাসরি আদালতে নিয়ে আসা হয়।
এর আগে সকাল ৮টায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নূর হোসেনকে নারায়ণগঞ্জে এনে তাকে পুলিশ লাইনে রাখা হয়। সেই থেকে ওই ঘটনায় নিহত পরিবারের স্বজনরা একে একে ভিড় করতে থাকেন আদালতপাড়ায়। কখন নূর হোসেনকে নিয়ে আসা হবে, কখন নূর হোসেনের মুখ থেকে বের হবে হত্যাকাহিনী।
গত রাতে যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে নূর হসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। নূর হোসেনকে বুঝে নিতে বেনাপোল চেকপোস্ট এর জিরো পয়েন্টে অবস্থান পৌঁছান বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এর মধ্যে রয়েছেন, ২৬ ব্যাটালিয়ন বিজিবির উপ অধিনায়ক মেজর লেয়াকত হোসেন, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, ডিবি পুলিশের ওসি রাব্বি হাশমি, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি অপূর্ব হাসান, ইমিগ্রেশন ওসি তরিকুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা এএসপি মোকলেসুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লার লামাপাড়া থেকে কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীতে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।
এরপর ২০১৪ সালের ১৪ জুন কলকাতার দমদম বিমানবন্দরের কাছে কৈখালি এলাকার একটি বাড়ি থেকে দুই সহযোগীসহ তাকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
নিহত নজরুলের মতো নূর হোসেনও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ছিলেন। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয়।
সাত খুনের মামলায় র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানাসহ ২২ জন কারাগারে রয়েছে। পলাতক রয়েছেন র্যাবের ৮ সদস্যসহ ১৩ আসামি।
আপনার মন্তব্য