সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ নভেম্বর, ২০১৫ ০১:৩৩

সিম ‘ক্লোন করে’ আনিসুজ্জামানকে হুমকি, মূল অপরাধীকে সনাক্তের দাবি পুলিশের

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে যে নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তার মালিককে আটক করেছিল পুলিশ। পরে তদন্তে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি ‘নির্দোষ’। তার নম্বর ‘ক্লোন করে’ আরেকজন ওই হুমকি দিয়েছে।

 পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক  বলেছেন, “ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যে ব্যক্তি হুমকি দিয়েছিল তাকেও আমরা শনাক্ত করে ফেলেছি। তবে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারিনি।”

বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট মোবাইল সিমের তথ্য চুরি করার পর ওই নম্বর ব্যবহার করাকে বলা হয় সিম ক্লোন করা। এভাবে বিভিন্ন অপরাধ ঘটানোর অভিযোগ এর আগেও গণমাধ্যমে এসেছে।

তবে অধ্যাপক আনিসুজ্জমানের ক্ষেত্রে ঠিক কী ঘটেছে, তা বিস্তারিতভাবে বলেননি শহীদুল হক।

গত ১০ নভেম্বর মোবাইল এসএমএসে হত্যার হুমকি পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক  আনিসুজ্জামান। সেখানে বলা হয়, ব্লগারদের পক্ষে দাঁড়ালে তাকে চাপাতির আঘাতে মরতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান অসাম্প্রদায়িক চেতনায় লেখালেখিতে সব সময় সক্রিয়। হুমকি পাওয়ার পর ওইদিনই গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে যে নাম্বার দিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছে সেই নাম্বারটি সালেহ ফুয়াদ নামে নিবন্ধিত থাকতে পারে বলে "আনিসুজ্জামানকে হুমকি দেয়া নাম্বারটি সালেহ ফুয়াদ নামের কোন ব্যক্তির! "   শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকমে। "ট্রু কলার এন্ড্রয়েড এপ্লিকেশন" দিয়ে যাচাই করে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।

এদিকে, ফেসবুকে নাম্বার অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে যে নাম্বার দিয়ে হুমকি সম্বলিত বার্তা দেওয়া হয় সে নাম্বার সিলেট থেকে প্রকাশিত "মাসিক নবধ্বনি" পত্রিকা বিক্রির জন্যে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

৭, এপ্রিল ২০১৩ সালে "মাসিক নবধ্বনি" পত্রিকার ফেসবুক পেজে বলা হয় Please call- Saleh Ahmed Fuad +8801738725815, Sylhet.

সম্প্রতি দেশের বেশ কজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এসব হত্যার হুমকির মধ্যে লেখক-প্রকাশের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটে। চাপাতির কোপে প্রকাশক ফয়সাল আরেফীন দীপনকে হত্যা করা হয় এবং এরপর দীপনের বাবাকেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এর আগে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে লেখক, ব্লগার ড. অভিজিৎ রায়কে হত্যার পর ওয়াশিকুর বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়কে হত্যা করা হয়।

উল্লেখ্য, লেখক-প্রকাশক হত্যা, হত্যা চেষ্টার প্রতিবাদে যে ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিক যৌথ বিবৃতি দিয়েছিলেন সেখানে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের নামও ছিল।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত