১৯ আগস্ট, ২০২১ ১৪:২২
নিজের দুই মেয়েকে ফিরে পেতে নাকানো এরিকো নামের জাপানি এক নারী একটি রিট দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জাপানি মায়ের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
পরে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এই আইনজীবী বলেন, ২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানি চিকিৎসক নাকানো এরিকো (৪৬) ও বাংলাদেশী আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) জাপানী আইন অনুযায়ী বিয়ে করেন। এরপর তারা টোকিওতে বাসবাস শুরু করেন। তাদের ১২ বছরের সংসারে জেসমিন মালিকা (১১), লাইলা লিনা (১০) ও সানিয়া হেনা (৭) জন্মগ্রহণ করে। এরা তিন জনই টোকিওর চফো সিটিতে অবস্থিত আমেরিকান স্কুল ইন জাপান এর শিক্ষার্থী ছিল।
২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি শরীফ ইমরান এরিকোর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেন। এরপর ২১ জানুয়ারি ইমরান আমেরিকান স্কুল ইন জাপান কর্তৃপক্ষের কাছে তার মেয়ে জেসমিন মালিকাকে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু এতে এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ইমরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এরপর একদিন জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা স্কুলবাসে বাড়িতে ফেরার সময় বাসস্টপ থেকে ইমরান তাদেরকে অন্য একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান।
এই আইনজীবী আরও বলেন, গত ২৫ জানুয়ারি ইমরান তার আইনজীবীর মাধ্যমে এরিকোর নিকট হতে মেয়েদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো সে আবেদন প্রত্যাখ্যন করেন এবং মেয়েদের নিজ জিম্মায় পেতে আদেশ চেয়ে গত ২৮ জানুয়ারি টোকিওর পারিবারিক আদালতে মামলা করেন।
আদালত ৭, ১১ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি মেয়েদের সাথে এরিকোর সাক্ষাতের অনুমতি দিয়ে আদেশ দেন। কিন্তু ইমরান আদালতের আদেশ ভঙ্গ করে মাত্র একবার মায়ের সাথে দুই মেয়েকে সাক্ষাতের সুযোগ দেন। এরপর গত ৯ ফেব্রুয়ারি ‘মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে’ ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন এবং ২১ ফেব্রুয়ারি জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে নিয়ে দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।
গত ৩১ মে এই দুই মেয়ের দেয়া বিবৃতি ও সামগ্রিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে টোকিওর পারিবারিক আদালত জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনাকে তাদের মা এরিকোর জিম্মা হস্তান্তরের আদেশ দেন। তবে দুই মেয়ে বাংলাদেশে থাকায় বিষয়টি নিয়ে এরিকো বাংলাদেশের একজন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করেন। এরপর গত ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলংকা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। তবে ইমরান তাকে শ্রীলংকা থেকেই ফিরে যেতে বলেন। একপর্যায়ে বাংলাদেশে এসে এরিকো কোভিড পরীক্ষা করালে তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসা সত্বেও ইমরান সে রিপোর্ট অবিশ্বাস করে সন্তানদের সাথে তাকে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানান।
অবশেষে গত ২৭ জুলাই এরিকোর মোবাইল সংযোগ বন্ধ করে চোখ বাঁধা অবস্থায় মেয়েদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ দেয়া হয় এবং একইভাবে গাড়িতে করে তাকে পৌঁছে দেয়া হয়। এমন প্রেক্ষাপটে জাপানি এই মা তার দুই মেয়েকে নিজের জিম্মায় পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এই রিটের শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
আপনার মন্তব্য