সিলেটটুডে ডেস্ক

২৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৯

আত্মগোপনে গাজী নজরুল!

এক তরুণীকে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় একটা হোটেলে ধরা পড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর প্রথমে এটা নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামী দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন এবং সামাজিক মাধ্যমে হোটেলে ধরা পড়ার দৃশ্যসহ একাধিক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তার খোঁজ আর মিলছে না।

এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী গতকাল ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিস্কার করেছে। আজ বৃহস্পতিবার জামায়াত গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্যপদ বাতিলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে।

গাজী নজরুল ইসলাম এখন কোথায় আছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। দল থেকে বহিষ্কারের পরও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারছেন না ঘনিষ্ঠজন কিংবা দলীয় নেতারা।

গাজী নজরুল ইসলামের দুই নিকটাত্মীয় জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ অনেক মানুষও জানেন না, তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন।

জামায়াতের একটি সূত্রে জানা গেছে, উনি এখন কোথায় আছেন তা কেউ জানে না। অনেকেই তার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরাও কিছু বলতে চান না।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আজিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পর থেকে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আমদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। তবে তার পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

গাজী নজরুল ইসলামের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি কোথায় আছেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। তিনি নিজের মতো করে কোনো একটি স্থানে আছেন।

এর আগে, গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীর সঙ্গে কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামকে দেখা যায়। ভিডিওর বিভিন্ন অংশে তাকে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে।

একটি ভিডিওতে দেখা যায় কয়েকজন যুবক একটা রুমে তাকে জিগ্যেস করছে কয়বার এসেছেন তিনি। তখন তিনি তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জানান এই প্রথম এসেছেন।

ভিডিও প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও। তবে পরবর্তীতে বিভিন্ন অনুসন্ধানে ভিডিওটি বাস্তব ফুটেজ বলে দাবি করা হয়।

গাজী নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ওই নারীর পরিচয় ও ভিডিও প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

এদিকে, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও বিতর্কের পর বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় গত বুধবার সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠিন করেছিলাম। তদন্ত কমিটি গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার প্রথম স্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে একটি রিপোর্ট আমাদেরকে দিয়েছে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে নির্বাহী কমিটি তার নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

এদিকে বহিস্কারের পর এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেননি গাজী নজরুল ইসলাম। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত