সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ আগস্ট, ২০২১ ১৪:৩৪

২১ আগস্ট: দণ্ডিত আসামির ১৫ জন এখনও পলাতক

রক্তাক্ত বিভীষিকাময় ২১ আগস্ট আজ। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে চালানো হয় নজির বিহীন গ্রেনেড হামলা। আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হন প্রায় তিন শতাধিক। ভয়ংকর সেই গ্রেনেড হামলার ঘটনার তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নানা তৎপরতা চালায়।

তবে, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এ–সংক্রান্ত মামলার নতুন করে তদন্ত শুরু করে, বেরিয়ে আসে নতুন তথ্য। ২০০৮ সালে ২২ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। তাতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে ওই হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা।

আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মামলার অধিকতর তদন্তের পর তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

৫২ জন আসামির মধ্যে জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি আগেই কার্যকর হয়েছিল যুদ্ধাপরাধের দায়ে। আর সিলেটে সাবেক ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলের ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল। সে কারণে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায় থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়।

ঢাকার দ্রুত বিচার টাইব্যুনাল ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর এ মামলার রায় প্রদান করেন, তাতে ৪৯ আসামির মধ্যে ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয় আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কারা হেফাজতে থাকা অবস্থায় মারা যান মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এনএসআইর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম। এ মামলায় দণ্ডিতদের মধ্যে ৩৩ আসামি কারাগারে রয়েছেন; আর ১৫ জন এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পলাতক আসামিরা হলেন- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, কুমিল্লার মুরাদনগরে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এ টি এম আমিন আহমদ, হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ, জঙ্গিনেতা মাওলানা তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন, আনিসুল মোরসালিন, মোহাম্মদ খলিল, মাওলানা লিটন, জাহাঙ্গির আলম বদর, মুফতি শফিকুর রহমান (যাবজ্জীবন), মুফতি আব্দুল হাই ও রাতুল আহমেদ বাবু।

মামলাটি এখন হাই কোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায় আছে। বেঞ্চে নির্ধারণ হলে শিগগিরই শুনানি শুরু হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত