২২ আগস্ট, ২০২১ ২১:৪৭
অভিনেত্রী পরীমণির মুক্তির দাবিতে রাজধানী ঢাকায় ফের সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে উপস্থিত হয়ে এবং ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে বিশিষ্টজনেরা তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। বক্তাদের অভিযোগ, অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার ও আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে না দেওয়ায় পরীমণির নাগরিক অধিকার হরণ করা হয়েছে।
পরীমণির গ্রেপ্তারের পর থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনসহ অভিনয় শিল্প সংশ্লিষ্টরা। রোববার (২২ আগস্ট) বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘বিক্ষুব্ধ নাগরিকজন’ ব্যানারে কবি-সাহিত্যিক, প্রকাশক, শিক্ষক, মানবাধিকার কর্মীসহ বিশিষ্ট নাগরিকরা সমবেত হন।
গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক আকরামুল হকের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া সোসাইটির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব, নাট্য পরিচালক মোস্তফা মনন, চলচ্চিত্র নির্মাতা রশিদ পলাশ, ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমাইয়া সেতু, ছাত্র ফেডারেশন সভাপতি গোলাম মোস্তফা, প্রকাশক রবিন আহসান প্রমুখ।
ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে বক্তব্য দেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ডিন সাদেকা হালিম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির প্রমুখ।
অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম তার বক্তৃতায় বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে পরীমণি সাংবিধানিক সকল অধিকার পাওয়ার যোগ্য। আমরা বিভিন্ন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, পরীমণির বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তা জামিনযোগ্য। কিন্তু তাকে জামিন না দিয়ে বারবার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। তিনি মিডিয়া ট্রায়াল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বুলিংয়ের শিকার।
সুলতানা কামাল বলেন, একজন মানুষ যিনি একটা অপরাধের শিকার হয়ে একসময় মামলা করেছিলেন, সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নানাভাবে প্রশ্ন করা হচ্ছে, এবং হেনস্তা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তাকে হেনস্তা করার দায়িত্ব রাষ্ট্র নিজের হাতেই তুলে নিয়েছে। তার জন্য আজকে আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। এর থেকে দুঃখজনক ও বিব্রতকর কোনো ঘটনা সমাজে হতে পারে না।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, পরীমণি মাফিয়া লিডার নন, তিনি কাউকে হত্যা করেননি। পরীমণি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিলেন, পরীমণি গলা উঁচু করে কথা বলেছিলেন, এটাই তার দোষ! বাংলাদেশের বড় বড় অপরাধী, দুর্নীতিবাজদের ছেড়ে একজন শিল্পীর পেছনে কেন লাগা হয়েছে সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। এদেশের একজন নারী ও নাগরিক হিসেবে তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।
পরীমণির মুক্তিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আপনি তো চলচ্চিত্রবান্ধব, শিল্পবান্ধব প্রধানমন্ত্রী। আপনি তো সব জানেন, সব দেখেন। আপনি পরীমণির উপর সদয় হোন, তাকে মুক্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
পরীমণি তো আপনার সন্তান, সে আপনাকে মা ডেকেছে। আপনার নিকট আমাদের বিশেষ অনুরোধ, আপনি বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করে তাকে মুক্ত করে দিন।
আপনার মন্তব্য