নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

২৩ অক্টোবর, ২০২১ ১৫:৪৩

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় প্রকাশ্যে কলেজছাত্রকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

৩ জনের নামে হত্যা মামলা

নিহত শিক্ষার্থী মো. আরিফুল ইসলাম রাহাত

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় প্রকাশ্য দিবালোকে সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে আরিফুল ইসলাম রাহাত (১৯) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর ২০২১) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।

নিহত রাহাত দক্ষিণ সুরমা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং দক্ষিণ সুরমার পুরোনো তেতলী এলাকার সুরমান মিয়ার ছেলে। দিনের আলোয় এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

হত্যার নেপথ্য কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে সরেজমিনে নিহতের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত রাহাতের বন্ধু মো: ওয়াসিম আহমেদ লাবিব মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন।

মো: ওয়াসিম আহমেদ লাবিব বলেন, “সকালে আমরা একসঙ্গেই ক্লাসে ছিলাম। ক্লাস বিরতির পর আমি নাস্তা করতে বের হই। হঠাৎ কলেজের প্রধান ফটকের দিক থেকে চিৎকার শুনতে পেয়ে এগিয়ে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, ছাত্রলীগ নেতা শামসুদ্দোহা সাদী, তানভীর আহমেদ ও অলিদ রহমান সানি সহ অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে এসে অতর্কিতভাবে রাহাতের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

হামলার ভয়াবহতা উল্লেখ করে লাবিব আরও বলেন, “সবার সামনে প্রকাশ্যে ছাত্রলীগ নেতা শামসুদ্দোহা সাদী ছুরি দিয়ে রাহাতের ডান পায়ে আঘাত করে। রাহাত মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বাকিরা তাকে ঘিরে ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং রাহাত ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপরই সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।”

মো: ওয়াসিম আহমেদ লাবিবের চিৎকারে রাহাতের চাচাতো ভাই আশরাফুল ইসলাম রাফি ও অন্য সহপাঠীরা ছুটে আসেন। রাফি জানান, “লাবিবের চিৎকার শুনে আমরা ভেতর থেকে ছুটে এসে রাহাতের রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পাই। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা আমাদের জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথে তার মৃত্যু হয়েছে।”

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার (২২ অক্টোবর ২০২১) নিহতের চাচা শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর-২৮৩)। সে মামলায় ৩ জনের নাম উল্লেখ ও ৫-৭ জনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে। দিনের আলোয় এমন প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও সহপাঠীরা অবিলম্বে পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের চণ্ডিপুল এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন রাহাতের সহপাঠীরা। এসময় তারা আরিফুল ইসলাম রাহাত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পরে পুলিশের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম বলেন, ‘‘কলেজ ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গত শুক্রবার থেকে আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত কলেজের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’’

সার্বিক বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় এই প্রতিবেদককে বলেন, “নিহত শিক্ষার্থীর লাশ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে, যা শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নিহতের চাচার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ওয়াসিম আহমেদ লাবিবসহ অন্যদের কাছ থেকে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের জোর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

আপনার মন্তব্য

আলোচিত