নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৩

সিলেটে হৃদয় কুমার হত্যা: আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দাবি

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পরিচ্ছন্নতাকর্মী হৃদয় কুমার হরিজন হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে হরিজন ঐক্য কল্যাণ পরিষদ। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে তার আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

শুক্রবার সিলেটের সিটি পয়েন্টে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

হরিজন ঐক্য কল্যাণ পরিষদ সিলেট জেলার সভাপতি সুজন বাঁশফোরের সভাপতিত্বে সমাবেশে সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া।

সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহত হৃদয় কুমারের ছোট বোন নূপুর বাঁশফোর, স্ত্রী পিংকি বাঁশফোর, হরিজন ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সহসভাপতি জাফরু বাঁশফোর, সাধারণ সম্পাদক রাজু লাল, মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সেহেলী রানী বাঁশফোর ও সন্দীপ বাঁশফোর।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, যুগ্ম সম্পাদক রমজান আলী পটু ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুস সালামসহ অন্যরা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, হৃদয় কুমার চার সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করতেন। গত ১১ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে তার স্ত্রীর ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে তাঁকে ডেকে নিয়ে ইমন, আমিনসহ কয়েকজন হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বক্তারা বলেন, হৃদয় কুমার ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুর পর পরিবারটির ভরণপোষণ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হৃদয় কুমারের আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এদিকে, হৃদয় হরিজন (৩৩) হত্যা মামলায় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। নরসিংদীর মাধবদী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইমন আহমেদ (২৬), রুমান আহমদ সাজ্জাদ (২৫) ও পারভেজ (২২)।

এ মামলার প্রধান আসামি মো. আমিন আহমদ (৩৫) পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার বিকালে এসএমপি পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম।

গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৭টার দিকে কাষ্টঘর সুইপার কলোনি এলাকায় হৃদয় হরিজনকে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত