দিরাই প্রতিনিধি

০৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০০

দিরাইয়ে ওলামাদের বাধায় মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ স্থগিত

দিরাইয়ে মেয়েদের ফুটবল টিম। ছবি সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্থানীয় ওলামাদের আপত্তির মুখে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকেলে উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাব ও দিরাইয়ের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

আয়োজকদের ভাষ্য, স্থানীয় আলেম-ওলামাসহ কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে খেলাটি বন্ধের দাবি জানান। পরে পুলিশও খেলা স্থগিত করার কথা বললে বিশৃঙ্খলা এড়াতে আয়োজকেরা ম্যাচটি স্থগিত করেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ও কোচ রাকিব আহমেদ জানান, ২০১৯ সাল থেকে এলাকায় কিশোরীদের ফুটবল খেলা আয়োজন করছে সংগঠনটি। জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টেও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এলাকার কিশোরীরা।

এরই ধারাবাহিকতায় সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হয়। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকেও জানানো হয়েছিল।

রাকিব আহমেদ বলেন, সোমবার সকালে ইউএনও সাহেব বলেছেন, যেহেতু দুটি পক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলাটি আয়োজন করা হলে ভালো হয়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকেও খেলা স্থগিত করতে বলা হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমরা খেলাটি স্থগিত করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরবর্তীতে খেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে হবে।

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার বলেন, পাঁচ-ছয় দিন আগে উপজেলা স্টেডিয়ামে কিশোরীদের ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি নেন আয়োজকরা। ম্যাচ নিয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপরই ওলামাদের একটি দল আমার সঙ্গে দেখা করে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা জানান।

তিনি বলেন, ‘আয়োজক সংগঠনটি অনেকদিন ধরে মেয়েদের ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করে। তবে সংগঠনটি নিবন্ধিত নয়। ওলামাদের দাবির মুখে আয়োজকদের জানাই, যেহেতু দুইপক্ষই স্থানীয়, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে। পরে আয়োজকরা ম্যাচ স্থগিত ঘোষণা করেন।’

এ ব্যাপারে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি মাওলানা শরিফ উদ্দিন বলেন, আগে শুনেছিলাম কিশোরীরা ফুটবল খেলবে। পরে মাইকিং করে মহিলাদের ফুটবল খেলা। এর আগে স্থানীয় কিশোরীরা দিরাইয়ে ফুটবল খেলেছে, আমরা বাধা দিইনি।

তিনি বলেন, দিরাইয়ে এর আগে মহিলাদের ফুটবল খেলা হয়নি। মহিলাদের নিয়ে মাঠে নাচানাচি, অশ্লীলতা হবে, এটা আমরা মানতে পারি না। আমরা খেলাধুলার বিরোধী নই, আমরা অশ্লীলতার বিরোধী।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, আয়োজকরা প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলেন। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত ছিলাম। পরে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আয়োজকরাই ম্যাচ স্থগিত করে দেন। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত