সিলেটটুডে ডেস্ক

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৬

অধ্যাপক নাহরিনের নেতৃত্বে মাহফুজুর ও আবুলকে কমিশনার করে তথ্য কমিশন গঠন

অধ্যাপক নাহরিন দেশের প্রথম নারী প্রধান তথ্য কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত

দুই বছরের বেশি সময় কার্যত অচল থাকার পর সচল হচ্ছে তথ্য কমিশন। শূন্য থাকা প্রধান তথ্য কমিশনার পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তথ্য কমিশনের নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) এ নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাদের এ নিয়োগ দিয়েছেন। এদিন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রেস-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উপসচিব খাদিজা তাহেরা ববি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাকে এ পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রধান তথ্য কমিশনারের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকার নির্ধারণ করবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান দুই দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণা, শিক্ষকতা ও নীতি প্রণয়নের কাজে যুক্ত রয়েছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে জার্মানির মারবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি এবং ফ্রেইবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিবেশ নীতি ও পরিবেশগত বিরোধ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। অস্ট্রিয়ার বোকু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেন্ডার স্টাডিজে ডিপ্লোমাও অর্জন করেন তিনি।

বর্তমানে তিনি মাধ্যমিক শিক্ষাক্রমের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ উন্নয়ন ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট সদস্য এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘হিট’ প্রকল্পের ন্যাশনাল এক্সপার্ট কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌন হয়রানি ও ডিজিটাল সহিংসতা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়কও তিনি।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নাহরিন ইসলাম খান কানাডাভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘কনফ্লিক্ট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ (সিআরআরআইসি)-এর পরিচালক। পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিবেশগত ন্যায়বিচারবিষয়ক প্রকল্প ‘রুলস অব ল অন আর্থ’-এর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন টেলিভিশন ও সংবাদপত্রে অনুষ্ঠান প্রযোজনা, উপস্থাপনা ও লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

চব্বিশের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশনে বিএনপি ঘরানার মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে নাহরিন বেশ পরিচিতি পান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বৈঠকেও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার অংশগ্রহণ দেখা গেছে। তাকে সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়।

প্রধান তথ্য কমিশনার ছাড়াও অপর এক প্রজ্ঞাপনে দুই তথ্য কমিশনারও নিয়োগ দিয়েছে সরকার। তারা হলেন সাংবাদিক এস এ এম মাহফুজুর রহমান ও খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন।

এস এ এম মাহফুজুর রহমান ছিলেন বার্তা সংস্থা ইউএনবির সাবেক সম্পাদক। এ বছরের মার্চ মাসে তাকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। স্পিচ রাইটারের দায়িত্ব দেওয়ার সাড়ে সাত মাসের মাথায় এ রদবদল এনে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

খান মোহাম্মদ আবুল হোসেন দৈনিক দিনকালের সহকারী সম্পাদক। এই পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশক আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব। 

২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের পর আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, সেপ্টেম্বরে তৎকালীন প্রধান তথ্য কমিশনার আবদুল মালেক ও তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম তৎকালীন অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চাপে পদত্যাগ করেন। এরপর আরেক তথ্য কমিশনার মাসুদা ভাট্টিকেও বাদ দেওয়া হয়। এরপর দুই বছরেও প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আট মাসের মাথায় প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনার নিয়োগ দিল।

বর্তমান সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করার চার মাস পর গত ৯ জুলাই তথ্য কমিশন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে নতুন করে বাছাই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়। বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের নেতৃতে¦ ৫ সদস্যের ওই বাছাই কমিটিতে ছিলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। এর মধ্যে গত ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহনের দিনই আন্দালিভ রহমান সরকারের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। ফলে বাছাই কমিটির কোরাম সংকট দেখা দেয় এবং তথ্য কমিশনারদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেমে যায়। পরে জামালপুর-৩ আসনের এমপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে বাছাই কমিটিতে যুক্ত করায় আবারো কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়। বাছাই কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯’অনুযায়ী বাছাই কমিটি প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে প্রাপ্ত আবেদনপত্রগুলোর মধ্য থেকে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুজন করে ব্যক্তির নাম রাষ্ট্রপতির নিকট সুপারিশ করবেন।

২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইনের অধীনে তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা এবং সরকারি ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।

এর আগে তথ্য কমিশনে ছয়জন প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আটজন ছিলেন তথ্য কমিশনার পদে। এরমধ্যে চারজন নারী তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও প্রধান হিসেবে নারী পেল এবারই প্রথম।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত