সিলেটটুডে ডেস্ক:

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ২২:৫০

সেই বিচারক কামরুন্নাহারকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারকে প্রত্যাহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন ও বিচার বিভাগ।

আইন ও বিচার বিভাগের উপসচিব শেখ গোলাম মাহবুব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বেগম মোছা কামরুন্নাহারকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করা হল।

গত ১১ নভেম্বর দেশে আলোচিত বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের মামলার রায় ঘোষণার পর পর্যবেক্ষণে আদালত পুলিশের উদ্দেশে ৭২ ঘণ্টা পর যদি কেউ ধর্ষণের মামলা করতে যায়- তা না নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের আদালত আলোচিত এ মামলার রায় দেন। আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, মামলার দুই ভিকটিম আগে থেকেই সেক্সুয়াল রিলেশনে অভ্যস্ত। তারা স্বেচ্ছায় হোটেলে গেছেন। সেখানে গিয়ে সুইমিং করেছেন। ঘটনার ৩৮ দিন পর তারা বললেন, ‘আমরা ধর্ষণের শিকার হয়েছি’। অহেতুক তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রভাবিত হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন। এতে আদালতের ৯৪ কার্যদিবস নষ্ট হয়েছে। এরপর থেকে পুলিশকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি। এ ছাড়া এরপর থেকে ধর্ষণের ৭২ ঘণ্টা পর যদি কেউ মামলা করতে যায়- তা না নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

পরে এ পর্যবেক্ষণ নিয়ে সমাজের নানা স্তরে সমালোচনা শুরু হলে রোববার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন জানান, বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে এজলাসে না বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই নির্দেশনার পর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘পর্যবেক্ষণ দেওয়া বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহারের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরিভাবে প্রয়োজন ছিল। ওই বিচারক রায় দিতে গিয়ে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তা মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। সেজন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় বেগম মোছা. কামরুন্নাহারকে রোববার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে আদালতে বসতে নিষেধ করা হয়েছে। তার বিচারিক ক্ষমতা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে সকালে আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত