১৩ মার্চ, ২০২২ ১৯:৪১
সমবায় হিসেবে নিবন্ধন নিয়ে অবৈধভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা এবং প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের কয়েকশ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শাহ সুলতান কোঅপারেটিভের চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলছেন, শরিয়াভিত্তিক ও সুদবিহীন লেনদেনের কথা বলে, ‘ধর্মীয় অনুভূতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে’ মানুষের কাছ থেকে আমানতের নামে অর্থ সংগ্রহ করে আসছিল এই প্রতারক চক্রটি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের হিসাবে তাদের কাছে গ্রাহকেরা দুইশ কোটি টাকা পাবেন। আর গ্রাহকদের হিসেবে এই অংক অনেক বেশি। তাদের গ্রাহক সংখ্যা ছয় হাজারের মত।
র্যাবের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাকব-১১ গত বুধবার নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা সবাই নরসিংদীর বাসিন্দা এবং চাকরিও করেছেন ওই জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
তারা হলেন- শাহ সুলতান কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহ আলম (৫০), তার সহযোগী দেলোয়ার হোসেন শিকদার (৫২), কাজী মানে উল্লাহ (৪৪), সুমন মোল্লাহ (৩৩) ও আবদুল হান্নান মোল্লাহ (৩০)।
রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক এবং উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানাকেও খুঁজছেন তারা।
শাহ সুলতান কোঅপারেটিভ সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নিয়ে ২০১০ সালে নরসিংদী সদরের চিনিশপুর ইউনিয়নে কার্যক্রম শুরু করে। এর পরিচালনা পর্ষদে থাকা ২০ জনই আগে বিভিন্ন ‘শরিয়াহ ভিত্তিক’ ব্যাংকে চাকরি করতেন বলে র্যা বের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
গ্রাহক হওয়ার শর্ত 'ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলা’
র্যাবের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, 'সমবায়' হিসেবে নিবন্ধন নিলেও সবরকম ব্যাংকিংয়ের লেনদেন চালিয়ে আসছিল শাহ সুলতান কোঅপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড।
খন্দকার আল মঈন বলেন, তাদের কোম্পানিতে আমানত রাখতে হলে আগে জানতে চাওয়া হত তারা ঠিকমত নামাজ পড়ে কি না। সব ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে চলে কি না- এমন পরীক্ষাও গ্রাহকদের দিতে হত।
ধর্মীয় রীতিনীতি মানার এমন কঠোরতার কারণে তাদের প্রতি মানুষের একটা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হত। এই বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুঁজি করেই তারা অর্থ সংগ্রহ করে আসছিল।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা র্যাবকে বলেছেন, তিনশর বেশি মাঠকর্মী ছিল তাদের। বেতনের বদলে তারা পেতেন এককালীন টাকা। যে বিনিয়োগকারীকে তারা ধরে আনতেন, মোট অর্থের আট থেকে ১০ শতাংশ কমিশন হিসেবে তাদের দেওয়া হত। আর ওই বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলে প্রতি মাসে পাঁচ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়া হত মাঠকর্মীকে।
ওই কোম্পানিতে পাঁচ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন এরকম গ্রাহকও পাওয়া গেছে জানিয়ে র্যাব কর্মকর্তা আল মঈন বলেন, ‘লভ্যাংশ পাওয়ায় পুরনো বিনিয়োগকারীরা পরে নতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে আসত। কিন্তু গোল বাঁধলো করোনাকালে অনেক গ্রাহক যখন তাদের মূলধন ফেরত চাইলেন।
তারা কারোরই মূলধন ফেরত দিতে পারেনি। এই তথ্য চাউর হয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকেরা যখন বেশি করে অফিসে আসতে শুরু করে, তখন তারা অফিসে তালা দিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়।
আপনার মন্তব্য