ডেস্ক রিপোর্ট

১১ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০৪:০০

এবার ইস্কন মন্দিরে গুলি-বোমা: দিনাজপুরে ২২ দিনে ৪ সন্ত্রাসী হামলা

দিনাজপুরে গত ২২ দিনে ৪ বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটল। এর মধ্যে আছে গির্জার ধর্মযাজক, চিকিৎসক, মন্দিরে হামলার মত ঘটনা। যার সর্বশেষ ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাতে।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) রাত পৌনে আটটার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের জয়নন্দ ডহচি গ্রামে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘের (ইস্কন) মন্দিরে ধর্মসভা চলাকালে ওই হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন দুজন। দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন একজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

কাহারোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহতরা হলেন, উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের দ্বিজেন চন্দ্র রায়ের ছেলে মিঠুন চন্দ্র রায় (২৭) ও বোচাগঞ্জ উপজেলার ঈশানিয়া গ্রামের রেপতী চন্দ্র রায়ের ছেলে রঞ্জিত চন্দ্র রায় (৪৫)। তাদেরকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মন্দির কমিটির সম্পাদক শ্যামল কুমার মজুমদারসহ কয়েকজন জানান, সন্ধ্যায় শ্রীশ্রী জগন্নাথ নামের ওই মন্দিরে ধর্মসভার প্রস্তুতি চলছিল। রাত পৌনে আটটার দিকে অতিথিরা আসন গ্রহণ করার সময় পাঁচটি মোটরসাইকেলে করে ১৪-১৫ জন যুবক মন্দিরের কাছে পৌঁছে চারটি ককটেল নিক্ষেপ করেন। এর একটি বিস্ফোরিত হয়। এরপর ওই যুবকেরা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ছয়টি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান। একটি গুলি মিঠুন চন্দ্র রায়ের কোমরে বিদ্ধ হয়। আর দুটি গুলি রঞ্জিত চন্দ্র রায়ের পায়ে বিদ্ধ হয়।

উপজেলার মধুহারি ঢাকাইয়াপাড়া এলাকা থেকে রাত সাড়ে আটটার দিকে স্থানীয় লোকজন শরিফুল ইসলাম নামের এক তরুণকে মোটরসাইকেল নিয়ে পালানোর সময় আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

স্থানীয় ডাবোর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ ঘোষ জানান, রঞ্জিত দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া গ্রামের বিভূতি চন্দ্র রায়ের ছেলে এবং মিঠুন কাহারোল উপজেলার ডাবোর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের দ্বিজেন চন্দ্র রায়ের ছেলে।

রাত ১০টার দিকে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম এবং দিনাজপুর-১ (কাহারোল-বীরগঞ্জ) আসনের সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। সর্বশেষ রাত ১২টা পর্যন্ত তাঁরা ঘটনাস্থলে ছিলেন।

এসপি মো. রুহুল আমিন একজনকে আটকের খবর নিশ্চিত করেছেন। জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বলেন, তদন্ত চলছে। আশা করি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শিগগিরই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপাল বলেন, ‘আমাদের এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সব সময়ই বজায় থেকেছে। কিছু দুষ্কৃতকারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা প্রশাসনিকভাবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর মোকাবিলা করব।’

এর আগে গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কান্তজিউ মন্দির প্রাঙ্গনে ভোলানাথ যাত্রা প্যান্ডেলে পরপর ৩ বার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

গত ১৮ নভেম্বর দিনাজপুর শহরের মির্জাপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডের পার্শ্ববর্তী এলাকায় ডা. পিয়েরো পারোলারী (৭৮) নামে এক বিদেশি ধর্মযাজককে পিছন থেকে গুলি করে তিন দুর্বৃত্ত। এতে তিনি আহত হন।

এ ঘটনার পর গত ২৬ নভেম্বর দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের চকবেনারসী এলাকায় অবস্থিত ক্যাথলিক চার্চের ফাদার কার্লসকে মোবাইল ফোনে এবং একই দিন রংপুরের ১০ খ্রিস্টান ধর্মযাজককে হত্যার হুমকি দিয়ে চিঠি দেয়া হয়।

এছাড়াও গত ৩০ নভেম্বর রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দর ইছামতি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ডা. বীরেন্দ্রনাথ রায় নামে এক পল্লী চিকিৎসককে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। আহত ওই চিকিৎসক সদর উপজেলার কিষানবাজারে অবস্থিত সনাতন ধর্মালম্বীদের ইসকন মন্দির কমিটির সভাপতি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত