নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২১:১০

২৬ মার্চ ঢাকায় ১৯৫ পাকিস্তানির প্রতীকী বিচার

আসছে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ১৯৫ জন পাকিস্তানির প্রতীকী বিচার করার ঘোষণা দিয়েছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৬ মার্চ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখ লাখ জনতার সামনে ১৯৫ পাকিস্তানি ঘাতকের প্রতীকী গণবিচার করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি নরঘাতক সেনাবাহিনীর ৯৫ হাজার সদস্য ও তাদের সহযোগী আল-বদর, আল-শামস, রাজাকাররা বিশ্বের ইতিহাসে নৃশংসতম বর্বরোচিত গণহত্যা চালিয়েছিল। তারা লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করেছিল। এই মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধে তাদের বিচার করা হবে।’

শাজাহান খান জানান, মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৯৫ জন সেনাকর্মকর্তার যুদ্ধাপরাধের বিচার করার অঙ্গীকার করে তাদের দেশে নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও পাকিস্তানি সরকার তাদের বিচার করেনি।

তিনি বলেন, ‘এজন্য আমরা প্রতিজ্ঞা করেছি ওইসব সেনা কর্মকর্তাকে ফিরিয়ে আনা হবে এবং এদেশে তাদের সহযোগিদের বিচার করা হবে।’

এছাড়াও পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নবগঠিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আহ্বান কমিটি।

মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর ইস্যুতে পাকিস্তান সরকারের সাম্প্রতিক অবস্থান দু’দেশের মধ্যে চলছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন। পাকিস্তানের অবস্থানে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ, ঢাকায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে তলব করলে, পাকিস্তানও তলব করে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে।

এর পাশাপাশি পাকিস্তান হাইকমিশনের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগাযোগ ইস্যুতে দু’দেশের সম্পর্ক করে তুলেছে আরও দুর্বল। এমন সময় পাকিস্তানে ফিরে যাওয়া ১৯৫ জন যুদ্ধারাধীর বিচার দাবি করেছে সর্বস্তরের মানুষ। নৌ মন্ত্রী শাহজাহান খানের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আহ্বাক কমিটি সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন তাদের দাবির কথা।

নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, “পাকিস্তান দূতবাসের কর্মকর্তা মাজহার খান, সেকেন্ড সেক্রেটারি ফারিনা আরশাদ বাংলাদেশের ভেতরে জঙ্গি নেটওয়ার্কেও প্রসার ও জালমুদ্রা ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা করছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতে তৎপর তারা। পাকিস্তান দূতাবাস এখন ষড়যন্ত্রের আখড়া নব্য কাশিমবাজার কুঠিতে পরিণত হয়েছে”।

বক্তারা বলেন, পাকিস্তান সরকারের হামুদুর রহমান কমিশনের প্রতিবেদনেও তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তার বিচার হয়নি।

নৌ পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, “১’শ ৯৫ জন পাকিস্তানি সেনার বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছিলো। তাদের বিচার করতে পাকিস্তানের প্রতি আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে জনমত গঠন করা হবে। পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের আর্থিক পাওনা বুঝে নিতেও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে। ২০১৬ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ জনতার সামনে ১’শ ৯৫ পাকিস্তানি সেনার প্রতীকী বিচার করা হবে”।

পাকিস্তান যাদের ‘সাচ্চা পাকিস্তানি’ হিসেবে দাবি করেছেন তাদের নাগরিকত্ব বাতিলের পাশাপাশি ধর্মের নামে সহিংসতা করায় জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তোলে কমিটি।

আগামী ৩ জানুয়ারি মতিঝিলে সমাবেশ এবং ৬ জানুয়ারি নিজামির ফাঁসির আদেশ বহালের দাবিতে গণ অবস্থানেরও ঘোষণা দেয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত