২২ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৯:৫০
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় পৌর নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সাথে দেখা করে এই দাবি জানিয়েছে বিএনপির প্রতিনিধি দল।
তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, সারাদেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই এই মুহূর্তে সেনা মোতায়েনের দরকার নেই। তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে সিইসির সঙ্গে দেখা করেন। ঘণ্টাখানেক পর সেখান থেকে বেরিয়ে মঈন খান সাংবাদিকদের জানান, পৌর নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে।
মঈন খানের ভাষায়, পৌর নির্বাচনে মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে যেতে পারেন সেজন্যই সেনা মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহে পৌরসভাগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। এজন্য সিইসির কাছে সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালীতে বিএনপির প্রার্থী হাজি হুমায়ুন সিকদারের নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়িতে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লোকজন ওই হামলা চালায়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ বিষয়টিও উল্লেখ করেন মঈন খান।
সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও এ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানান।
মঈন খান ছাড়াও প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হালিম ও সুজাউদ্দিন, দলের যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন এবং যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
এদিকে, পৌরসভা নির্বাচনে সেনা মোতায়েন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেছেন, সেনা মোতায়েনের বিষয়ে এতো আগে কিছু বলা যাবে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবো। এখনো সেনা মোতায়েনের মতো কোনো পরিস্থিতি দেখছি না।
মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, আমরা আশা করি সব শান্তিপূর্ণভাবে হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। আশা করছি, আইন মোতাবেক সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমরা সবাইকে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক গুণগত মান উন্নত হবে।
সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাচ্ছেন না- এমন অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সিইসি বলেন, কিছু কিছু রিপোর্ট আমরাও পাচ্ছি। আমরা কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি অ্যাকশনে যাচ্ছি। হাজার টাকা জরিমানা হচ্ছে। জরিমানার ক্ষেত্রে দল দেখা হচ্ছে না। সবাইকে সমানভাবে জরিমানা করা হচ্ছে।
আপনার মন্তব্য