২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২১:৩৫
২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে রাজধানীর সৌন্দর্য বর্ধনে ইসলামী ব্যাংকের অনুদান নিয়েছিলেন তৎকালীন বিসিবি প্রধান আ হ ম মুস্তফা কামাল। সম্প্রতি তিনি সেই অনুদানের স্বপক্ষে যুক্তি তোলা ধরায় সমালোচনার মুখে পড়েন। আর এই আলোচনা সমালোচনার মধ্যেই এবার ইসলামী ব্যাংকের কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকার অনুদান নিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।
রাজধানীর গুলশান-বনানীর আবাসিক এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য মঙ্গলবার মেয়রের হাতে অনুদানের ৫০ লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে বুধবার ইসলামী ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। টাকা নেয়ার একটি ছবিও প্রকাশ করেছে তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ল এন্ড অর্ডার কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মুস্তাফা আনোয়ারের নিকট থেকে সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চেক গ্রহণ করেন।”
বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভুঁইয়া দিলান ও ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এএইচএম লতিফ উদ্দিন চৌধুরীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোয় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নিয়ন্ত্রণ থাকার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় অধ্যাপক আবুল বারকাত ২০১১ সালে এই ব্যাংকের টাকা নিয়ে বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনের জন্য বিসিবির তৎকালীন সভাপতি মুস্তফা কামালকে দায়ী করেন।
বিশ্বকাপের সময় ইসলামী ব্যাংকের টাকা নেয়া বিষয়ে বর্তমান পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, "ইসলামী ব্যাংক এদেশে নিয়ম মেনে বৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে অসুবিধা কোথায়, তাছাড়া অন্য কোন ব্যাংক এগিয়ে না আসায় তাদের অনুদান নিতে হয়েছে।"
এর আগে গত বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংক অর্থ দেয়ার পর গণজাগরণ মঞ্চসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন তার প্রতিবাদ জানিয়েছিল। পরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতীয় সংগীতের অনুষ্ঠানে ইসলামী ব্যাংকের কোনো অর্থ খরচ করা হচ্ছে না।
মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাসেম আলী ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। ব্যাংকটির বর্তমান চেয়ারম্যান আবু নাসের মোহাম্মদ আব্দুজ জাহের মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম এলাকায় আল বদর বাহিনীর নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ আছে।
এছাড়া ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল হান্নানও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত। সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ. সালেহ জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোঃ তাহেরের ভাই। ব্যাংকটিতে কর্মরত বেশিরভাগই জামাত শিবিরের রাজনীতির সাথে কোন না কোন সময় যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ আছে।
আপনার মন্তব্য