সিলেটটুডে ডেস্ক

২১ অক্টোবর, ২০২২ ১২:৩৮

যানবাহন বন্ধের বিষয়ে কিছু জানেন না বিআরটিএ চেয়ারম্যান

যানবাহন বন্ধের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার। তিনি বলেছেন, দেশের কোথাও গাড়ি বন্ধের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা কিছু জানি না। কেউ আমাদের কাছে কোনো দাবি-দাওয়াও জানায়নি। মালিক শ্রমিকরা আমাদের বলে ধর্মঘট করে না।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) সকালে বনানীর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান কর্যালয়ে এসব কথা বলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার।

শনিবার ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ উপলক্ষে বিআরটিএ এর কর্মসূচি জানাতে এদিন সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন নূর মোহাম্মদ। একজন সাংবাদিক তাকে বলেন, “যেখানেই সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল সমাবেশের ডাক দিচ্ছে, সেখানেই গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন, তারা তো জিম্মি হয়ে যাচ্ছেন। এটা কী নাগরিক অধিকার পরিপন্থি নয়? ময়মনসিংহে একই অবস্থা ছিল, এখন খুলনার মানুষ এই ভোগান্তিতে পড়েছে। এক্ষেত্রে কী বিআরটিএর কোনো ভূমিকা নেই?”

এমন প্রশ্নের মুখে পড়ে দৃশ্যত কিছুটা বিব্রত বিআরটিএর চেয়ারম্যান পাল্টা প্রশ্ন করেন, “আপনার প্রশ্নটা কি এখানে প্রাসঙ্গিক?” জবাবে প্রশ্নকারী সাংবাদিক বলেন, “অবশ্যই, গণপরিবহন সচল রাখা আপনাদের দায়িত্ব। মালিকারা ইচ্ছে করলেই তো এমন করতে পারে না।”

বিআরটিএর চেয়ারম্যান তখন বলেন, “অফিসিয়ালি আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। কেননা কেউ এ বিষয়ে কোনো দাবি-দাওয়া আমাদের কাছে প্লেস করে নাই বা অভিযোগ দেয়নি। আমরা এ ব্যাপারে জানি না।”

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট, ভাড়া নির্ধারণ বা অন্য বিষয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ নিরসনে বিআরটিএকে মধ্যস্থতা করতে দেখা গেছে বিভিন্ন সময়ে। বিআরটিএর কার্যালয়েই পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে সভা করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে অতীতে। তবে এবার খুলনার গাড়ি চলাচল নিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেল।

খুলনা শহরের সোনালী ব্যাংক চত্বরে শনিবার বিভাগীয় গণসমাবেশ করার ঘোষণা রয়েছে বিএনপির। এই কর্মসূচি ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকে আন্তঃজেলা বাস বন্ধ রেখেছেন খুলনার বাস মালিক-শ্রমিকরা। শনিবারও তাদের ‘ধর্মঘট’ চলবে। বিএনপির অভিযোগ, তাদের বিভাগীয় সমাবেশকে ‘ব্যাহত করতে সরকারের চাপের মুখে’ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরেও একই অবস্থা তৈরি হয়েছিল। তখন ময়মনসিংহের সঙ্গে বাস ও ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত