১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৩৩
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
অন্যদিকে, পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সংস্থাটির নেতৃত্বের প্রতি তার বিশ্বাস ও আস্থা হারিয়েছে।
টেড্রোসকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, ‘আমার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্যই আমি আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম, যা আমি আন্তরিকভাবে করে এসেছি।’
তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বের প্রতি তিনি ‘বিশ্বাস ও আস্থা’ হারিয়েছেন। বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের পর প্রায় এক বছর কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তার আর্থিক অবস্থাও অসহনীয় হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রয়টার্স বলছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর এর যে প্রভাব পড়েছে, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পদত্যাগের ঘটনাকে এরই সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শেখ হাসিনার অনেক ঘনিষ্ঠ মিত্র এখন দুর্নীতির মামলার আসামি, অথবা তার মতোই স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন।
শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় তার মেয়ে পুতুল ২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে সংস্থাটির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাঁচ বছরের জন্য ওই দায়িত্ব নেন।
চব্বিশের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হন তার মা শেখ হাসিনা। এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শেখ হাসিনার পাশাপাশি পুতুলকেও কয়েকটি দুর্নীতি মামলায় আসামি করা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্লট দুর্নীতির অভিযোগে এক মামলায় পুতুলকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত। এর আগে তাকে ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারিরও আদেশ দিয়েছিল ঢাকার আদালত।
এর চার মাস পর, ২০২৫ সালের ১১ জুলাই পুতুলকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠায় ডব্লিউএইচও। সে সময় একজনকে ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও ইতোমধ্যে তার মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে গত ২০ আগস্ট স্বাধীন তদন্ত চেয়েছিলেন পুতুল।
সূত্রের বরাতে রয়টার্স বলছে, ডব্লিউএইচও আগামি মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।
রয়টার্সের হাতে আসা ২০২৬ সালের ৩ জুলাইয়ের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানান, চীন ভ্রমণসংক্রান্ত আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগটি সঠিক নয়। তাদের দাবি, নিয়মিত ক্ষতিপূরণের আবেদন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি হয়েছে। ওই ঘটনায় ৯০১ ডলারের একটি অর্থের কথা উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষাগত যোগ্যতার অভিযোগের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের জন্য তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুসকে তিনি স্পষ্ট তথ্য দিয়েছিলেন।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালককে দেওয়া পদত্যাগপত্রে পুতুল লেখেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমি দখলেরও অভিযোগ আনা হয়েছে। এর জবাবে তিনি বলেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি আইনের অধীনে ওই জমির বৈধ অধিকারী ছিলেন তিনি।
ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক পরিচালকরা বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হন। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে পাঁচ বছরের জন্য এ পদে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক নির্বাচনে ১০ ভোটের মধ্যে আটটি ভোট পেয়েছিলেন পুতুল।
আপনার মন্তব্য