২৪ অক্টোবর, ২০২২ ২১:৫৯
ঘূর্ণিঝড় 'সিত্রাং'-এর প্রভাবে মধ্যরাতের দিকে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়টির অগ্রভাগ সোমবার সন্ধ্যায় উপকূলে আঘাত করায় আপাতত বড় বিপদ দেখছেন না বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া। তবে ঝড়টি কয়েক ঘণ্টা ধরে উপকূল অতিক্রম করলে মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়ে জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে সাধারণত সকাল ৯টা থেকে জোয়ারের পানি আসতে শুরু করে। এ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে পানির উচ্চতা প্রায় দেড় থেকে দুই মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া জানান, জোয়ারের পানি স্থায়ী হয় ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত। এরপর আসে ভাটার টান, সেটিও থাকে ৬ ঘণ্টা। সে হিসাবে সোমবার বেলা ৩টা থেকে ভাটা চলছে দক্ষিণাঞ্চলে। এরপর জোয়ার আসবে রাত ৯টার দিকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপকূলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ। এটির কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করবে রাতে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং সোমবার মধ্যরাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ভোলা হয়ে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার দিয়ে বাংলাদেশর উপকূল অতিক্রম করবে।’
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামানের মতে, জলোচ্ছ্বাসের রূপ কেমন হবে তা নির্ভর করছে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র কখন দেশের উপকূল অতিক্রম করবে তার ওপর।
তিনি জানান, জোয়ার-ভাটার হিসাব অনুযায়ী রাত ৯টার দিকে দক্ষিণাঞ্চলে জোয়ার শুরু হবে। রাত ১০টা থেকে ১১টার দিকে জোয়ারের পানির উচ্চতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাবে। এ সময়ে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করলে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে ৫ থেকে ৭ ফুট পর্যন্ত পানি বাড়তে পারে।
এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ‘মঙ্গলবার পূর্ণ অমবস্যা। এ সময় জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে আধা মিটার এমনিতেই বেড়ে যায়। ফলে সিত্রাংয়ের প্রভাবে নিম্নাঞ্চলে যে পানি ঢুকবে তা পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।’
বুধবার দিনের শেষ ভাগে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন মো. আরিফুজ্জামান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল।
বরিশালের পাশের জেলা ঝালকাঠির বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভোলা খেয়াঘাটসংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার, ভোলার দৌলতখানের সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার, তজুমদ্দিনের সুরমা-মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের বুড়িশ্বর/পায়রা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে বইলেও বরগুনার বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ও পাথরঘাটার বিষখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া পিরোজপুরের বলেশ্বর ও উমেদপুরের কচা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
আপনার মন্তব্য