সিলেটটুডে ডেস্ক

২৬ অক্টোবর, ২০২২ ১৬:১৭

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা চলছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯৭১ সালে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন।

বুধবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘জাতিসংঘের আঙিনায় শেখ হাসিনা’ শীর্ষক সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ‘বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম’।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা না করেই রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার খেলায় উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিসংঘের শক্তিশালী ভূমিকা থাকলে গরিব রাষ্ট্রগুলোর এমন খারাপ অবস্থা হতো না।’

আব্দুল মোমেন বলেন, ‘যুদ্ধ থামাতে যা-ই করা হোক- তা জাতিসংঘের মাধ্যমে সমন্বয় করা হলে ভালো হয়, কার্যকর হয়। জাতিসংঘের সঙ্গে আলাপ না করেই স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) বসানো হলো। এর পরিণতি আমরা ভোগ করছি। যাদের বিরুদ্ধে স্যাংশন, তাদের কিছুই হয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে তা বলা যাবে না। যুদ্ধ-বিগ্রহ বন্ধের বিষয়ে জাতিসংঘের দুর্বলতা রয়েছে। তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এখনো হয়নি- এটাও জাতিসংঘের অবদান। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো গণতন্ত্র নেই। পাঁচ দেশের ইচ্ছামতো সব কিছু চলছে। নিরাপত্তা পরিষদে নিয়মগুলোর সংস্কার এখন সময়ের দাবি। আমরা চাই জাতিসংঘ আরো শক্তিশালী হোক।’

মোমেন আরও বলেন, দেশে গুম নিয়ে যে তথ্য দেওয়া হয় তা সঠিক নয়। ৬৮ জনের গুমের তথ্য আমরা জানি। এরই মধ্যে ভারতে গুম হওয়া দুজনকে পাওয়া গেছে। ফলে এখন গুম ২ জন কমে ৬৬ জনে এসেছে। আমেরিকায় বছরে হাজার হাজার মানুষ বন্দুকধারীদের গুলিতে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার হয়। কিন্তু গত তিন বছরে আমাদের দেশে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং হয়েছে কি না- তা আমার জানা নেই। যারা মারা গিয়েছে তারা অপরাধী।

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য আমরা আমাদের তথ্য ও ডকুমেন্টস এখনো পাঠাতে পারিনি। আমরা যদি আরো আগে পাঠাতে পারতাম তাহলে স্বীকৃতি পেয়ে যেতাম। এটা নিয়ে কাজ চলছে। কারণ ভালোভাবে তথ্য দিতে না পারলে এটা স্বীকৃত হবে না। '

আলোচনাসভায় প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সভাপতি ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিল্টন বিশ্বাস, অধ্যাপক রশিদ আসকারী, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, নিউজ বাংলার পরিচালক আফিজুর রহমান প্রমুখ।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত