০৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১১:০৭
দেশে আদিবাসী নারীদের ওপর সহিংসতা বন্ধে সচেতন নাগরিকসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক। গতকাল বুধবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক আয়োজিত সেমিনারে এই আহ্বান জানানো হয়।
‘আন্তর্জাতিক নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ’ উপলক্ষে ‘সিক্সটিন ডেইজ অফ এক্টিভিজম’ এর অংশ এই সেমিনার।
‘আদিবাসী নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা বন্ধ করুন’ শিরোনামে সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের যুগ্মআহ্বায়ক চৈতালী ত্রিপুরা।
সেমিনারে বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্য সুজয়া ঘাগ্রা বলেন, “বাংলাদেশে আদিবাসী নারীর ওপর বিভিন্ন সহিংসতা, নিপীড়ন নির্যাতন যেমন ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, ধর্ষনের পর হত্যা ইত্যাদি ঘটনা প্রায়ই দেখি।
‘পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাসহ আদিবাসীদের ভূমির সমস্যা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, আদিবাসী নারী ও মেয়েশিশুর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তারা বিভিন্ন ধরনের যৌন, শারীরিক ও মানসিক সহিংসতার শিকার হয়।’
সুজয়া বলেন, ‘আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও লিঙ্গের কারণে প্রায়ই তারা বিভিন্ন বৈষম্যের সম্মুখীন হচ্ছে। এসব বৈষম্যের প্রতিরোধ শুধু আদিবাসী সমাজ করলেই হবে না। সবাইকে নিয়ে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়তে হবে।’
আদিবাসী নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোর আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন বলেন, ‘মেঘালয়ের খাসি মেয়ে, গারো মেয়ে আর বাংলাদেশের খাসি মেয়েরা একই অধিকার নিয়ে জন্মায় না। আদিবাসী নারীদের সহায়তা করতে হবে, তাদের উৎসাহ দিতে হবে। আর আদিবাসী নারীদের সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা সমাজকে পরিবর্তন করতে পারব।’
মুক্তিযদ্ধে আদিবাসী নারীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিষয়ক সংসদীয় ককাসের যুগ্মসমন্বয়ক এবং গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভের সাধারণ সম্পাদক জান্নাত-এ ফেরদৌসী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে আদিবাসী নারীদের অংশগ্রহণের ওপর গবেষণা করতে গিয়ে জানতে পেরেছি ত্রিপুরা নারী লাকড়ির ভেতর অস্ত্র লুকিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন কিন্তু কেউ জানতে চায়নি তার নাম। এভাবেই অনেক নারী আদিবাসীর নাম কোন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি।’
ইন্টারন্যাশনাল ল্যান্ড কোয়ালিশনের এশিয়া রিজিওনাল কো-অর্ডিটর মিরগুল আমানিলাভা বলেন, ‘নারী শুধু পুরুষকে বাঁচায় না, তারা বিশ্বকেই বাঁচাতে পারে। নারীরাই এই পৃথিবীকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে।’
নারীর প্রতি সব ধরনের নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপপরিচালক শাহনাজ সুমী বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সবার সঙ্গে মিলে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হবে। পাড়ার তরুণদের সহিংসতা বন্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
‘নারীরা শুধু বাইরে নয়, ঘরের ভেতরেও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আত্মীয়-স্বজন দ্বারাও নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়। নির্যাতনের শিকার নারীরা মুখ খুলেও কথা বলতে পারেন না সামাজিকতার ভয়ে।’
সেমিনারে এএলআরডির ব্যবস্থাপক সানজিদা খান রিপা, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্গুনী ত্রিপুরাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মন্তব্য