সিলেটটুডে ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:৫৪

রাজাকারদের কুকর্মও পাঠ্যপুস্তকে আনার দাবি

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধিতাকারী রাজাকারদের কুকর্মও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। রোববার রাতে জাতীয় যাদুঘরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ দাবি জানান।

মন্ত্রী বলেন, শুধু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নয়, তখন যারা পাক-হানাদার বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের সহযোগিতা করেছিল, সেই রাজাকারদের বিশদ বর্ণনা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তা না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজম্ম জানতে পারবে না তার পূর্বপুরুষেরা কেমন ছিল। তারা যদি নাই জানতে পারে তাহলে একজন মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারের মধ্যে পার্থক্য তারা বুঝতে পারবে না।

মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘মহামান্য হাইকোর্ট এক তরফা কথা শুনে, কিছু ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে রায় দিচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে কারা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সেটা যাচাই-বাছাই করতে দেরি হচ্ছে।’

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আমলাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যেখানে যান সেখানেই ক্ষমতার অপপ্রয়োগ হচ্ছে। সরকারের সচিব হওয়ার পরে তাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কথা শুনলে তাদের গা জ্বলে। জয় বাংলা শুনলে মাথা গরম হয়ে যায়। দু’এক জন সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া অন্যরা জয় বাংলা বলতে সাহস পায় না। এই জয় বাংলা স্লোগান তো মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান।

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কথা তুলে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা মারা গেছেন, সবাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। প্রকৃতপক্ষে যারা মুক্তিযুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন তারাই প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। গণ-শহীদরা সবাই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবেন না। তারাও সম্মানিত, তবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নয়।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ১০ হাজার টাকা করেছে। আগামী বছর থেকে সকল মুক্তিযোদ্ধা সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা পাবেন। সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৪০ হাজার আবাসন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধারা আগামী বছর থেকে দুটি উৎসব ভাতা পাবেন।

দেশব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকারদের জন্য ঘৃণা স্তম্ভ বানানো হবে বলেও জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঘৃণা স্তম্ভের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশে গণকবরগুলো চিহ্নিত করে একই ধরনের স্মৃতি ফলক বানানো হবে। যেসব জায়গায় সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে সেসব জায়গায় একই ধরনের ফলক বানানো হবে। সেই সঙ্গে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই ধরনের ডিজাইন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজম্ম ইতিহাস সম্পর্কে সহজেই অবগত হতে পারে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত