সিলেটটুডে ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৭:২২

ভারত থেকে চা আমদানি বেড়েছে ৬শ’ শতাংশ

দেশের চা শিল্প সুরক্ষায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেশকিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে সরকার। আমদানি নিরুৎসাহিত করতে সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। পাশাপাশি নেয়া হয় বেশকিছু কর্মপরিকল্পনা। তার পরও বাড়ছে চায়ের আমদানি। চলতি বছরের এপ্রিল-অক্টোবর সময়ে শুধু ভারত থেকেই চা আমদানি বেড়েছে ৬০০ শতাংশের বেশি।

ভারতীয় চা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (এপ্রিল-অক্টোবর) দেশটি থেকে বাংলাদেশে চা আমদানি হয়েছে ৩৮ লাখ ৭০ হাজার কেজি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৩০ হাজার কেজি। এ হিসাবে ভারত থেকে বাংলাদেশের চা আমদানি বেড়েছে ৬৩০ শতাংশ।

শুধু পরিমাণ নয়, মূল্য হিসেবেও চা থেকে ভারতের রফতানি আয় বা বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশে চা রফতানি থেকে ভারতের আয় হয়েছে ২৯ কোটি ২৮ লাখ রুপি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৭৩ লাখ রুপি। এ হিসাবে আমদানি বাবদ বাংলাদেশের ব্যয় ও রফতানি বাবদ ভারতের আয় বেড়েছে ৫১৯ শতাংশ।

যোগাযোগ করা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন বলেন, চা আমদানি বৃদ্ধির ধারাটি সাময়িক বলে আমরা মনে করছি। কিছু শ্রেণীর চায়ের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সাময়িকভাবে সরবরাহ বেড়েছে। তবে আমাদের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন দেশীয় চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। এটি আরো সম্প্রসারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। আমদানি-রফতানির গতিবিধির ওপরও আমাদের নজরদারি রয়েছে।

জানা গেছে, গত অর্থবছরে ১ কোটি ৪৩ লাখ কেজি চা আমদানি হয় দেশে। চলতি অর্থবছর তা দেড় কোটি কেজি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধিতে আমদানিকৃত চায়ের দাম বাড়বে। ফলে দেশে উৎপাদিত চায়ের দাম তুলনামূলক কম হবে। এতে চাহিদাও বাড়বে। যদিও এর প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই চা আমদানি হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ২ হাজার ৬৭১ কেজি।

টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও এইচআরসি সিন্ডিকেট লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণেই আমদানি বেড়েছে। দেশে চায়ের উৎপাদন ও চাহিদায় বিপুল ব্যবধান থাকায় আমদানির মাধ্যমে তা পূরণ করতে হয়।

মানহীন চা আমদানি করে দেশীয় চা শিল্প ধ্বংস করে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের সহসভাপতি আফজাল রশীদ চৌধুরী। তিনি বলেন, গত দু-তিন বছরে দেশের অনেক চা বাগান মালিক একেবারে পথে বসে গেছেন।

সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে চায়ের উৎপাদন বার্ষিক ৬ কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার কেজি। এর বিপরীতে চাহিদা আছে ৬ কোটি ৭১ লাখ ৭০ হাজার কেজি।

জানা গেছে, সরকারের ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে চা শিল্পের উন্নয়নে ১০টি কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— চা বাগানের উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অনুন্নত চা বাগানের উন্নয়ন, ক্ষুদ্রায়তন চা বাগান সম্প্রসারণ, চা বাগানের কারখানা সুষমকরণ ও আধুনিকীকরণ। প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট ও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট জোরদারকরণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, শ্রমিক কল্যাণ ও চা বাগানের ব্যবস্থাপনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নও রয়েছে এ ১০ দফা কর্মপরিকল্পনার মধ্যে। তিন পর্যায়ে ১২ বছর মেয়াদি এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯৬৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৮৩৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ। বাকি টাকা অনুদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ২০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ হাজার ৪৪০ হেক্টর জমিতে চা চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত