সিলেটটুডে ডেস্ক

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫ ২০:৩৭

রাজিব হত্যার রায়ে বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে: ইমরান সরকার

ব্লগার, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী রাজিব হায়দার শোভন হত্যা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করে বৃহস্পতিবার বিকাল চারটা থেকে শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চ।

বিক্ষোভ সমাবেশে রাজিব হায়দারের বাবা ডাঃ নাজিম উদ্দিন বলেন, “খুনিরা আমার পরিবারের লোকের উপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে, এরপরে আদালতেও স্বীকার করেছে তারা কিভাবে আমার ছেলেকে খুন করেছে। কোন ছুরি দিয়ে তারা রাজিবকে মেরেছে, সেটাও তারা বলেছে। তারপরও তাদের সবার সর্বোচ্চ শাস্তি হয়নি। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি”।

তিনি বলেন, “আমার ছেলেকেই শুধু না, আমার ছেলের আরো অনেক সহযোদ্ধাদেরকেও হত্যা করা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ঘটা এই হত্যাকাণ্ডগুলোর প্রথম রায় হলো আজ। আজকে এই খুনিদের, দেশের শত্রুদের যোগ্য শাস্তি না দেয়ার কারণে আরো অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটার সুযোগ তৈরি হলো। সর্বোচ্চ আদালতে সব খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আমরা আপিল করবো, আমরা ন্যায়বিচার চাই।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, “রাজিব হায়দার হত্যা মামলার রায়ে আত্মস্বীকৃত খুনিদের মাত্র দুইজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে,যেখানে একজন পলাতক। অন্য চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, অথচ এরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি উপস্থিত ছিল, এরা আত্মস্বীকৃত খুনি। এই খুনের নির্দেশদাতা এবং খুনিদের আদর্শিক নেতা জঙ্গী জসিমুদ্দিন রাহমানীকে মাত্র পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আত্মস্বীকৃত খুনিদের গুরুপাপে লঘুদণ্ড দিয়ে রক্ষা করার এই রায়ে কোনোভাবেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি, আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করছি। জনগণের আকাঙ্ক্ষার কোনো প্রতিফলন আমরা এই রায়ে দেখতে পাচ্ছি না”।

তিনি বলেন, “একদিকে সরকার জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের কথা বলছে, আরেকদিকে সরকারের ভেতরে জঙ্গি প্রতিপালনকারীরা রয়েছে, যারা জঙ্গিদের রক্ষা করছে, যেন তারা বের হয়ে আবারও নতুন নতুন হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে।

রাজিব হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামী রানা, যে নিজের হাতে রাজিবকে জবাই করেছে, সে এখনো পলাতক রয়েছে। এই রানা শুধু রাজিবকেই হত্যা করেনি, ওয়াশিকুর রহমান বাবুকেও সে হত্যা করেছে। রানাকে যদি সময়মতো গ্রেফতার করা সম্ভব হতো, তাহলে ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে মরতে হতো না। জসিমুদ্দিন রাহমানীকে মাত্র পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে, এর মধ্যে দুই বছর অতিবাহিত হয়েছে। আর দুই বছর পর সে বের হয়ে আর কাউকে সে হত্যা করবে।

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড নিয়ে বারবার বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ড নাকি ক্লুলেস, অপরাধীদের নাকি খুঁজে বের করা যায় না। আমরা বারবার বলে এসেছি, সরকারের মধ্যে অনেকে এদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। নাহলে এরা পালিয়ে বেড়াতে পারতো না। আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধানরা বলেন, তাদের নেটওয়ার্কের মধ্যে নাকি অপরাধীদের পালিয়ে বেড়ানো সম্ভব না। তাহলে আমার প্রশ্ন, এই অপরাধীরা কোথায়?”
ব্লগার হত্যাকাণ্ডের প্রথম রায় হলো আজ। এই রায়ে বিচারের নামে প্রহসন হয়েছে। বিচারের নামে যখন এরকম প্রহসন হয়, তখন আর আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয়না যে, এই অপরাধীদের বাঁচিয়ে রাখার একটা চেষ্টা চালানো হচ্ছে, যাতে নতুন নতুন হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

উচ্চ আদালতে সকল খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্লগার মারুফ রসুলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, ভাস্কর রাসা।

এরপর শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে স্থাপিত রাজিব হায়দার শোভনের প্রতিকৃতিতে আলোক প্রজ্জ্বলন করা হয়। আলোক প্রজ্জ্বলন শেষে শাহবাগ থেকে টিএসসি হয়ে মশাল মিছিল নিয়ে শাহবাগে ফিরে আসে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা।

 

আপনার মন্তব্য

আলোচিত