০১ জানুয়ারি, ২০১৬ ০০:১৫
দেশের সকল নাগরিককে খ্রিস্টীয় নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০১৬ সালের পারম্ভে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো আলাদা বিবৃতিতে শুভেচ্ছা জানান তারা।
নতুন বছরের শুভেচ্ছায় রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলা নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও ব্যবহারিক জীবনে ইংরেজি বর্ষপঞ্জিকা বহুল ব্যবহৃত হওয়ায় খ্রিষ্টীয় নববর্ষ সকলকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে।”
আবদুল হামিদ বলেন, “বিগত বছরের সব অকল্যাণ ও ব্যর্থতার গ্লানি মুছে নতুন বছর আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।”
কালের বিবর্তনে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ উদযাপন বাংলাদেশের 'জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত' হয়েছে মন্তব্য করে কোনো ধরনের অপসংস্কৃতি যেন 'মানুষের এই আনন্দধারায়' বিঘ্ন ঘটাতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ও প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিদের পাশাপাশি সারা বিশ্বের সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণীতে ২০১৫ সালকে বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি 'গৌরবোজ্জ্বল বছর' বলে অভিহিত করেন।
শেখ হাসিনা তার শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, “দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সাল বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল বছর।”
জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ 'চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হওয়া এবং তথ্যপ্রযুক্তি প্রসারের জন্য বাংলাদেশেরআইটিইউ অ্যাওয়ার্ড অর্জনসহ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
২০১৫ সালে পদ্মা সেতুর মূল অংশ এবং 'রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র’ স্থাপনের কাজ শুরুসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “বৈশ্বিক শান্তিসূচক, ক্ষুধাসূচক, খাদ্যসূচক, লিঙ্গ-বৈষম্যসূচক, শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার, বৈশ্বিক সমৃদ্ধিসূচক, বিশ্বগণমাধ্যম সূচকসহ সকলক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে এবং অনেকক্ষেত্রে ভারতের চাইতে আমাদের অবস্থান ভালো।”
বিদ্যুৎ উৎপাদন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি ও মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে নিম্ন-মধ্যম আয়ের স্বীকৃতির কথা তুলে ধরে শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পরনির্ভরশীল অর্থনীতির চক্রভেঙে আজ আমরা আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির দ্বারপ্রান্তে।”
শুভেচ্ছা বাণীতে ভারতের সঙ্গে ৬৮ বছরের অমীমাংসিত ছিটমহল বিনিময় এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করার প্রসঙ্গ টেনে নতুন বছরে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ-শান্তিপূর্ণ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা' প্রতিষ্ঠায় কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে নতুন বছর গণতন্ত্র-শান্তি-অগ্রগতির বছরে পরিণত করতে হবে বলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রত্যাশা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “দেশে অজস্র রক্তঋণে অর্জিত গণতন্ত্র অপহৃত হয়েছে। গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি জনগণের সকল অধিকারকে বন্দি করে রেখেছে। এ অবস্থায় সব গণতান্ত্রিক শক্তির মিলিত সংগ্রামে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে হবে।”
দেশে-বিদেশে সংঘাত আর অশান্তির ঘটনা প্রবাহে নতুন বছরটিকে গণতন্ত্র, শান্তি ও অগ্রগতি বছরে পরিণত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি নেত্রী।
আপনার মন্তব্য