০৮ জানুয়ারি, ২০১৬ ১২:৩৬
একটি কফিন, তার ওপর আগুনে পোড়া বাসের আসন। চারপাশে রক্তের ছোপ ছোপ দাগ, মানুষের কঙ্কাল। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে জুতা-স্যান্ডেল। এটা গত বছরে বিএনপি-জামায়াত জোটের রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নাশকতার ভয়ঙ্কর চিত্র।
জাতীয় চিত্রশালা প্রদর্শনীতে বেশিক্ষণ দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। এমন অগণন চিত্রে হাহাকার করে ওঠবে বুক।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত জোটের নৃশংসতার আলোকচিত্র নিয়ে গত বুধবার থেকে শুরু হয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী। আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-পরিষদ। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জমান ভুঁইয়া ডাবলু, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জমান সোহাগ প্রমুখ। সেই সঙ্গে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে ওই বছরের প্রথম তিন মাসের সহিংসতা নিয়ে ২৭ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
গত বছরে বিএনপি-জামায়াত জোটের টানা অবরোধ আর হরতালে হাজারও মানুষের ভিড় জমেছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। যাদের কারও চোখ, কারও মুখ, কারও আবার সর্বাঙ্গে ছিল আগুনে পোড়া দাগ। কারও ঝলসে গিয়েছিল শরীরের প্রায় পুরোভাগ। রাজপথজুড়ে বাস-ট্রাকের পোড়া গন্ধ ছাপিয়ে গিয়েছিল মানুষ পোড়ার কটু-গন্ধে। এক বছর পর সেই বীভৎস, গা-গুলিয়ে-ওঠা দৃশ্যগুলো আবার ফিরে এলো ফ্রেমে বন্দি হয়ে।
আগুনে দগ্ধ এ মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছুটে গিয়েছিলেন বার্ন ইউনিটে, তুলে দিয়েছিলেন সহায়তা। এমন আলোকচিত্রও রয়েছে প্রদর্শনীতে।
দুই শতাধিক আলোকচিত্রের পাশাপাশি ছিল পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের কাটিংও। রয়েছে গোটা পাঁচেক চিত্রকর্ম। সেগুলোতেও উঠে এসেছে দগ্ধ মানুষের বিবর্ণ মুখ, আর্তনাদ, আহাজারি। গত বুধবারে শুরু হওয়া তিন দিনের এ প্রদর্শনী আজ শুক্রবার রাত ৮টায় শেষ হবে।
আপনার মন্তব্য