১২ জানুয়ারি, ২০১৬ ০৯:২০
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে নির্যাতনকারী এস,আই মাসুদ শিকদারের গ্রামে বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে। এলাকায় মানুষও তার এবং তার ভাইদের কর্মকান্ডে ব্যাপক ক্ষুব্ধ বলে খবর প্রকাশ করেছে স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যম।।
খবরে প্রকাশ, তাদের দাপট ও মতার অপব্যবহার এবং হয়রানীতে এলাকার মানুষ তটস্থ হয়ে থাকে সব সময়। এক সময় পারিবারিকভাবে অস্বচ্ছল থাকলে পুলিশে চাকুরীর সুবাধে এখন বিত্তশালী পরিবার হিসাবে এলাকায় পরিচিত। গ্রামের বাড়িতে টিনশেট ঘর থাকলেও সোয়াইতপুর বাজারে রয়েছে একটি বিশাল বাউন্ডারি করা বাসাবাড়ি।
ছুটিতে বাড়িতে আসলে সেই বাসা থেকে বসেই এলাকায় রাজত্ব কায়েম করার চেষ্ঠা করে মাসুদ। পুলিশের উপ-পরিদর্শক হওয়ায় এলাকার মানুষ তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের ভয়ে কিছু বলতে সাহস পায়না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যাক্তি জানান, মাসুদ শিকদারের উঠতি বয়সের যুবকদের শক্তিশালী একটি বাহিনী আছে। সেই যুবকদের দিয়ে ঢাকায় চাঁদাবাজী করানোর অভিযোগও রয়েছে। ছুটিতে বাড়ি আসলে সেই বাহিনীর সাথে আরও যোগহয় উপজেলা শহরের ৭/৮ জনের একটি গ্রুপ। সারা রাত সোয়াইতপুর বাজারের বাসায় চলে মাদকের আড্ডা ও বেচাকেনা। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসীদের মানুষ বলে পাত্তাই দেয় না সে।
কৃষক পরিবারের জন্ম নেয়া মাসুদ শিকদার এলাকায় চলাফেরা ও অর্থ অপব্যায় প্রশ্নবিদ্ধ করে স্থানীয়দেরও। নাম না বলা শর্তে সোয়াইতপুর বাজারের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, মাসুদ শিকদারের ভাইয়ের দম্ভোক্তি করে বলছে, আমার ভাইয়ের কিছুই হবে না, তাকে ক্লোজড করা হয়েছে মিডিয়াকে দেখানোর জন্য, তার হাত অনেক বড় লম্বা, কয়েকদিন পর সব আগের মতো হয়ে যাবে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দুরে সোয়াইতপুর গ্রামের মরহুম সিরাজ আলী শিকাদারের পুত্র এস,আই মাসুদ শিকদার এলাকায় আব্দুল্লা নামে পরিচিত।
পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকুরীতে যোগদান করে প্রায় ১৪ বছর আগে বিবাহ করেন পাশ্ববর্তী সোয়াইতপুর পূর্বপাড়া গ্রামে ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত আনসার ডাকাতের কন্যা রুমাকে। বলা হয়, সেই থেকে মাসুদ শিকদারের উত্থান। এস,আই মাসুদ শিকাদের পিতা মরহুম সিরাজ আলী শিকদারের ৩য় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে সবার বড় মাসুদ শিকদার পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে চাকুরী শুরু করেন।
ব্যাংক কর্মকর্তা গোলাম রাব্বিকে নির্যাতন ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবীর ঘটনা ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারেন এলাকাবাসী। এঘটনা জানাজানির পর থেকে সোয়াইতপুর গ্রামসহ ঘোটা উপজেলা জুড়েই ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে। স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনীবিদসহ সচেতন নাগরিক সমাজ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেছেন।
আপনার মন্তব্য