সিলেটটুডে ডেস্ক

১২ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৫:২২

ক্রিকেটার শাহাদাতের বিচার হবে ট্রাইব্যুনালে

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিন জাহান নিত্যর মামলার বিচারের জন্যে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুরু মিয়ার নিকট এই মামলার চার্জশিটসহ নথিপত্র উপস্থাপন করা হয়। এর পর বিচারক উপস্থাপিত নথিসমেত অভিযোগপত্র বিচারের লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিএমএম বরাবর পাঠিয়ে দেন।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর ও ৮ ডিসেম্বর যথাক্রমে জেসমিন ও ক্রিকেটার শাহাদাত ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর মিরপুর মডেল থানার ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান শাহাদাত হোসেন ও তার স্ত্রী জেসমিন জাহান ওরফে নিত্যকে অভিযুক্ত করে ঢাকার সিএমএম আদালতে এই মামলার চার্জশিট দাখিল করেন।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, শাহাদাত ও তার স্ত্রী তাদের বাসার গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তারকে মেরে তার পা এবং হাতের আঙুল ভেঙে ফেলেছেন। মাহফুজা যাতে পালাতে না পারে, সেজন্য এক বছর ধরে তাকে বাথরুমে ঘুমাতে বাধ্য করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে শাহাদাত মাহফুজাকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছেন।

ক্রিকেটার শাহাদাত ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৪ এর (২) খ ধারায় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর কালশী থেকে শাহাদাতের গৃহকর্মী মাহফুজা আক্তার হ্যাপিকে (১১) উদ্ধার করে পুলিশ। হ্যাপি পুলিশের কাছে দেয়া তার জবানবন্দিতে শাহাদাৎ ও তার স্ত্রীর নির্যাতনের কথা বলে। ওই রাতেই মিরপুর মডেল থানায় শাহাদাৎ দম্পতির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক খন্দকার মোজাম্মেল হক।

হ্যাপিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হয়। তার শরীরের অধিকাংশ স্থানে গুরুতর জখম ও ফুলে যাওয়ার চিহ্ন ছিল। আঘাতের চিহ্ন ছিল দু’চোখেও। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকার দাগ রয়েছে।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর হ্যাপি ঢাকার সিএমএম আাদলতে তার ওপর নির্যাতনের বর্ণনা দেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে নির্যাতনকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছিল গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক ও শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরাম।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত