১২ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৯:৪৪
আগামী বছর থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান তথ্য জানিয়েছেন।
বর্তমানে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর ৭০ শতাংশকে মাথাপিছু মাসিক একশ’ টাকা করে উপবৃত্তি দেওয়া হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কুলগুলোর পরিচালনা পর্ষদে যারা থাকেন তারা সবাইকে উপবৃত্তি দিতে চান। এজন্য তারা স্কুলের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেখান।
“এতে দুটো সমস্যা হচ্ছে- প্রথমত প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা জানা যাচ্ছে না, আবার অতিরিক্ত বই ছাপতে হচ্ছে।”
মোস্তাফিজুর বলেন, “প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম উপবৃত্তির পরিমান বাড়াব। কিন্তু সবাইকে দেওয়ার ইচ্ছে আছে প্রধানমন্ত্রীর। আবার আমরা ভুল হিসাবের মধ্যেও আছি।এজন্য আগামী বছর সবাইকে উপবৃত্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে ৫ শতাংশ বেশি শিক্ষার্থী দেখানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে দেশে সরকারি ৬৩ হাজার ৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কোটি ৪৬ লাখ ৭১ হাজার ৯১৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে এই সংখ্যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
এজন্য প্রাথমিক শিক্ষায় কত শিক্ষার্থী আছে তা নিশ্চিত হতে এবার বই দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ছবি তুলে রাখা হয়েছে।
পার্বত্য এলাকাসহ যেসব প্রত্যন্ত এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই সেসব এলাকায় সরকার আবাসিক ব্যবস্থাসহ স্কুল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান গণশিক্ষামন্ত্রী।
এছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃভাষায় বই ছাপার কাজও চলছে বলেও তিনি জানান।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস (পিসিসিআর) ও সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে ‘সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিকার’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভার আলোচকরা সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে আইনি ব্যবস্থার দাবি তোলে খসড়া শিক্ষা আইন চূড়ান্ত করায় দেরির অভিযোগ করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষায় অনেক উন্নতি হলেও প্রত্যাশার তুলনায় প্রাপ্তি আসেনি- এটা আমি মানি। তবে এজন্য আইন দরকার তা আমি মনে করি না। কারণ যেসব দেশে আইন হয়েছে তাদের তুলনায় আমাদের দেশে শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি বেশি, ঝরে পড়ার হার কম।”
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী বলেন,“আমাদের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাশাও বাড়ছে। যেকারণে প্রাপ্তির সাথে প্রত্যাশার ফারাক থাকছে। তবে একথা মানতে হবে, আমরা অনেক এগিয়েছি, আরও এগোতে চাই। আপনারা (আয়োজকরা) একটি সুপারিশমালা দেন। জাতীয় সংসদ অবশ্যই সেটি ইতিবাচকভাবে দেখবে।”
ব্যারিস্টার আমির-উল ইসলাম, সংসদ সদস্য শামসুল আলম দুদু, আবুল কালাম আজাদ, হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, উম্মে রাজিয়া কাজল, শিক্ষক নেতা কাজী ফারুক ও সেইভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্ট টীম হোয়াইট আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।
আপনার মন্তব্য