সিলেটটুডে ডেস্ক

১৪ জানুয়ারি, ২০১৬ ২০:০২

মামলা শুনানির তারিখ এলেই ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েন সাকা’র স্ত্রী!

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ফাঁস সংক্রান্ত মামলার শুনানির তারিখ এলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী। এমন পরিস্থিতিতে ফের পেছাল মামলার শুনানি।

এর আগে একাধিকবার অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে আবেদনের মাধ্যমে শুনানি পিছিয়েছেন এ যুদ্ধাপরাধী সাকা’র স্ত্রী।  এ নিয়ে ৯ম বারেও চার্জ শুনানি করতে পারেনি ট্রাইব্যুনাল, এবং অধিকাংশই পিছিয়েছে অসুস্থতার অজুহাতে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) এ মামলায় সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরীর অসুস্থতার কারণে চার্জ শুনানি পেছানোর জন্য আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাখিল করা সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে বিচারক আগামী আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করেছেন।
 
গত ২৯ নভেম্বর এই মামলাটির চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য থাকলেও বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ১৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। এর আগে গত ১৫ অক্টোবরও দিন ধার্য ছিল। কিন্তু চার্জ শুনানি না হওয়ার অজুহাত ছিল একই, অসুস্থতা।
 
এর আগে গত ৫ অক্টোবর হাজিরা দাখিল করেও তা প্রত্যাহার করে নিয়ে অসুস্থতার কারণে ট্রাইব্যুনালে আসতে পারেননি তিনি। অসুস্থতার অজুহাতে সময়ের আবেদন দাখিল করে আসামিপক্ষ।
 
ওইদিন জামিনে থাকা আসামি সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফারহাত কাদের চৌধুরী ও ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী ট্রাইব্যুনালে এসে হাজিরাও দাখিল করেছিলেন।

সেদিন সময়ের আবেদনের শুনানিকালে মামলাটিতে জেলহাজতে থাকা আসামি ট্রাইব্যুনালের কর্মচারী ফারুক আহমেদ, ও নয়ন আলীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্যদিকে আসামি ব্যারিস্টার একেএম ফখরুল ইসলাম ও সাকা চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী জামিনে থেকে আদালতে হাজির হন।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে ওই মামলায় গত বছর ২৮ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন গোয়েন্দা পুলিশ ডিবির ইন্সপেক্টর মো. শাহজাহান।
 
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদেরকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তবে রায় ঘোষণার আগেই সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্য এবং আইনজীবীরা রায় ফাঁসের অভিযোগ তোলেন।

তারা ‘রায়ের খসড়া কপি’ সংবাদকর্মীদের দেখান। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্টার একেএম নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে ওই বছর ২ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় আসে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর বিরুদ্ধে। এরপর আসামিপক্ষ এ রায়ের রিভিউয়ের আবেদন করলে রিভিউ প্রত্যাখ্যাত হয়। তারপর যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির কাছে একাত্তরের কৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করত প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন। সেখানেও তা প্রত্যাখ্যাত হলে গত ২২ নভেম্বর ফাঁসি কার্যকর হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত