১৫ জানুয়ারি, ২০১৬ ২৩:৪৩
আগামী ২০ জানুয়ারি (বুধবার) পাকিস্তানি দূতাবাস ঘেরাও করবে গণজাগরণ মঞ্চ। বাংলাদেশি কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে পাকিস্তান থেকে বহিস্কারের প্রতিবাদে এ কর্মসূচী পালন করবে গণজাগরণ মঞ্চ।
শুক্রবার বিকেলে শাহাবাগে এক সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার ঘোষণা দেন, বুধবার বিকাল ৩ টায় গুলশান-২ এর গোলচত্বরে জমায়েত হয়ে সেখান থেকে পাকিস্তানি দূতাবাস ঘেরাও করব। যদি ২০ তারিখের মধ্যে সরকার আমাদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে তবেই কেবল আমরা আমাদের কর্মসুচী পুনর্বিবেচনা করব অন্যথায় নির্ধারিত তারিখে আমাদের কর্মসূচী পালিত হবে”।
এসময় তিনি ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ছাত্র, নারী, যুব, শ্রমিক সংগঠনের সাথে মতবিনিময় চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন।
ইমরান এইচ সরকার সর্বস্তরের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পাকিস্তানের ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে সরকার যখন উপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছেনা, সাধারণ জনতাকেই রাজপথে নেমে এসে হায়েনার ঔদ্ধত্যের দাঁতভাঙা জবাব দিতে হবে”।
“বাংলাদেশি কূটনীতিক মৌসুমি রহমানকে বহিষ্কারের প্রেক্ষিতে সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়ার প্রতিবাদে'' শুক্রবার বিকালে শাহবাগের জাতীয় যাদুঘরের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ।
এসময় ইমরান এইচ সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “পাকিস্তান যেভাবে বাংলাদেশি কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে বহিষ্কার করেছে, তা পুরোপুরি শিষ্টাচার বহির্ভূত। এর কোনো ব্যাখ্যা পাকিস্তান দিতে পারেনি। আমরা পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দিতে সরকারকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। সরকার এর মধ্যে পাকিস্তানের এই ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
পাকিস্তানি কূটনীতিক ফারিনা এর আগে বাংলাদেশে পাকিস্তানের দূতাবাসকে জঙ্গীবাদের কাজে ব্যবহার করছিলো। তাকে প্রমাণসহ বহিষ্কার করা হয়েছিলো। যেহেতু আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কূটনীতিকের অপরাধের বিচার তার নিজ দেশের করার কথা, সেখানে বাংলাদেশ সরকারের উচিত ছিলো ফারিনার উপযুক্ত বিচারের জন্য পাকিস্তানকে চাপ প্রয়োগ করা। সরকার সেটা করেনি।
যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হবার পর থেকে ব্লগার হত্যা, লেখক-প্রকাশক হত্যা, বিদেশীসহ নানারকম মানুষ হত্যা, বিভিন্ন জায়গায় হামলা ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশে জঙ্গী আছে, আইএস আছে ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছে। পাকিস্তানসহ যেসব রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে, সেসব রাষ্ট্রই এসব ষড়যন্ত্রের পেছনে আছে বলে আজকে প্রমাণিত হয়েছে। আরো ভালোভাবে তদন্ত করলে এই বিষয়টি আরো পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হবে।
সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসার ছাত্র হত্যাকে কেন্দ্র করে যে হামলা হলো, তাতে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, এটি খুবই পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্র বলে তার খুনকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো কারণ নেই, কিন্তু এর প্রতিবাদ করার যথাযথ ভাষা আছে। এই হত্যাকে কারণ দেখিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপর যে হামলা হলো, তাতে বোঝা যায় কারা এটা ঘটিয়েছে।
সমাবেশে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন মারুফ রসূল, তাহমিন সুলতানা স্বাতী, খান আসাদুজ্জামান মাসুম, ইমরান হাবিব রুমন, ভাস্কর রাসা, শম্পা বসু প্রমুখ।
এরপর মঞ্চের নেতাকর্মীরা একটি মশাল মিছিল করেন। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে আবার শাহবাগ এসে শেষ হয়। এসময় তারা “পাকিস্তানের প্রেতাত্মা, পাকিস্তানে চলে যা”, “ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে, পাকি এম্বাসি ঘেরাও হবে” ইত্যাদি শ্লোগান দিচ্ছিলেন।
আপনার মন্তব্য