সিলেটটুডে ডেস্ক

২৫ অক্টোবর, ২০২৫ ১৯:৫৯

৫৭ হাজার মেট্রিক টন গম নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথমবারের মতো গম আমদানি শুরু হয়েছে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) ৫৬ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন গমের প্রথম চালান নিয়ে ‘এমভি নোর্স স্ট্রাইড’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৩৪ হাজার ১৭০ টন চট্টগ্রামে এবং বাকি ২২ হাজার ৭৮৯ টন গম মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে। কর্ণফুলীর মোহনায় সাইলো জেটিতে বুমের মাধ্যমে সরাসরি পতেঙ্গার সাইলোতে চলে যাবে গম।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫৬ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন গমের প্রথম চালান নিয়ে ‘নোর্স স্ট্রাইড’ নামের একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে অবস্থান করছে। জাহাজে রক্ষিত গমের নমুনা পরীক্ষা শেষে দ্রুত খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত জি টু জি চুক্তি নং ১ এর অধীনে প্রথম জাহাজ ‘এমভি নোর্স স্ট্রাইড’ ওয়াশিংটন এর কালামা বন্দর থেকে ৫৬ হাজার ৯৫০ টন গম নিয়ে আজ সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে কুতুবদিয়ায় নোঙর করেছে।

এমভি নোর্স স্ট্রাইড জাহাজের বাংলাদেশের লোকাল এজেন্ট চট্টগ্রামের সেভেন সিস শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী আকবর খবরের কাগজকে বলেন, সকালে নোঙর করার পর জাহাজের গম নিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে খালাস শুরু হবে। জাহাজটির ৬০ শতাংশ পরিমাণ গম কুতুবদিয়ায় এবং চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে খালাস করবে। বাকী ৪০ শতাংশ গম নিয়ে যাবে মংলা বন্দরে। এ চুক্তির মাধ্যমে ৪টি জাহাজে করে প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন গম সরবরাহ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আলোকে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার বিষয়টি শনিবার তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানি করা হবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি পূরণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যে ১ অগাস্ট থেকে বাড়তি ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এর আগে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ছিল গড়ে ১৫ শতাংশ, এখন নতুন করে আরও ৩৫ শতাংশ শুল্ক বাড়ায় এটি দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে। শুল্ক থেকে বাঁচতে মার্কিন আমদানির পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার ও কমানো এবং সে থেকে আমদানির বাড়ানোর পথে হাঁটে অন্তর্বতী সরকার।

যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূরক শুল্কের চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টার মধ্যে জুলাই মাসে দেশটি থেকে বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানির জন্য সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ।

ঢাকায় এ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের তথ্য দিয়ে তখন খাদ্য মন্ত্রণালয় বলেছিল, দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টিমান এবং খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এ সমঝোতা হয়েছে।

যদিও ভারত, রাশিয়া, বেলারুসহ অন্যান্য দেশ থেকে প্রয়োজনীয় গম আমদানি করা হয়। পরে জুলাইতে দীর্ঘ আলোচনার পর তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যে শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশে। যা বর্তমানে বলবদ রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা ও সয়াবিনসহ মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানির পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ গম আমদানি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছর প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে সাত লাখ টন উচ্চমানের গম আমদানির বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইউএস হোয়েট অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফকে সাওয়ার সমঝোতায় সই করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত