সিলেটটুডে ডেস্ক

০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩৬

জুলাই বিপ্লবের দুই বছরে দলীয়করণ ও অদক্ষতায় দেশ আবারও সংকটের দ্বারপ্রান্তে: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে প্রত্যাশিত স্বস্তি ফিরে আসেনি। সরকারের দলীয়করণ, সংস্কারবিরোধী অবস্থান, ক্ষমতার অতিমাত্রায় কেন্দ্রীকরণ এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার কারণে দেশ আবারও সংকটের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।

বার্তার শুরুতে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের সর্বস্তরের নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট জাতির ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন, যা বাংলা ব-দ্বীপের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, গৌরব ও বিজয়ের ধারাবাহিকতার প্রতীক।

তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর থেকেই এ ভূখণ্ডের মানুষের মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, হাজী শরীয়তুল্লাহর ফরায়েজি আন্দোলন, হাবিলদার রজব আলীর বিদ্রোহ এবং শেরে বাংলার লাহোর প্রস্তাব সেই দীর্ঘ অভিযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও জনগণের প্রত্যাশিত ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতার কারণে বহু স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে গেছে।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, পরবর্তী সময়ে দেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন, দমন-পীড়ন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার পর ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, আইনজীবী, নারী, সাংবাদিক, প্রবাসী, সৈনিক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সম্মিলিত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্টের পরিবর্তন আসে।

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের বিজয়ের পরও শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হয়নি। ক্ষমতার রাজনীতির কারণে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপের গণআকাঙ্ক্ষা ব্যাহত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, গণভোটে প্রদত্ত জনরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের রাজনীতি পরিহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত এবং ২০২৪ সালের ঘটনাসহ সব গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

বার্তার শেষাংশে তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ রিয়া গোপ, শহীদ হৃদয় তরুয়াসহ সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি দেশবাসীর প্রতি অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার বার্তার সমাপ্তি হয় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত