০৯ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২১:৩৩
“ধর্মীয় মৌলবাদের কাছে আজ মুক্তচিন্তা আড়ষ্ট হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। গৃহকোণে বসে না থেকে রাস্তায় নেমে আসতে হবে”।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিলিয়া মিলনায়তনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আয়োজনে কবির চৌধুরী স্মারক বক্তৃতা ও আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা আরও বলেন, সরকার তার অবস্থান থেকে কাজ করছে। এর সঙ্গে জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। রাজপথে নামতে হবে। মুক্তচিন্তাকে বিপন্ন হওয়ার পথ থেকে রক্ষা করতে হবে আরও বেশি বেশি মুক্তচিন্তা চর্চা করতে হবে।'
'বাংলাদেশে জঙ্গি মৌলবাদ: বিপন্ন মুক্তচিন্তা' শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে সূচনা বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী স্মারক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক অজয় রায়।
এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রিয় নির্বাহীর সদস্য ডা. নুজহাত চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল।
কামাল লোহানী বলেন, 'মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে আজ পদে পদে বাধা। সরকার বলে জিরো টলারেন্সের কথা। কিন্তু মানুষ মারা যাচ্ছে। এছাড়া পুলিশ বলে তিন স্তর, চার স্তরের নিরাপত্তার কথা। কিন্তু আমি আজও সাংবাদিক হিসেবে এই স্তরটাই বুঝলাম না। তাদের যে চাদর থাকে তা কি সুতোয় বুনো তা আমি জানি না। কিন্তু ওই চাদর ভেদ করেই অভিজিৎদের মত ব্লগারদের খুন করে মৌলবাদীরা। তাই শুধুমাত্র সরকারের ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। সরকার তার মত করে কাজ করছে। আমাদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে মৌলবাদের মোকাবেলা করতে হবে।'
শুদ্ধস্বরের মালিক মৌলবাদের হামলার শিকার হয়ে সপরিবারে দেশত্যাগের খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'অনেক প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও আমরা চেতনার প্রশ্নে কখনো আপোষ করিনি। বয়োবৃদ্ধ হলেও কবীর চৌধুরী এসব আন্দোলনের সব সময় সামনের সারিতে দাঁড়িয়েই নেতৃত্ব দিতেন।'
আব্দুর রশিদ বলেন, 'আজ শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বেই উগ্র মৌলবাদের উত্থান দেখা যাচ্ছে। এটা শুধুমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে নয়। এটা চেতনার লড়াই। তাই মুক্তচিন্তার ওপর সর্বত্রই আঘাত আসছে। এই আঘাত মোকাবেলা করতে হবে আরো বেশি মুক্তচিন্তার চর্চার মাধ্যমে।'
আপনার মন্তব্য