সিলেটটুডে ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২১:৪৭

শেরপুরে বাঘের থাবায় পৌর মেয়র আহতের পর ক্ষুব্ধ জনতার হামলায় নিহত বাঘ

শেরপুর জেলার শ্রীবরদীতে চিতা বাঘের থাবায় পৌর মেয়র আবু সাঈদ (৩০)সহ ৩ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার জনতার সম্মিলিত আক্রমণে বাঘটি প্রাণ হারিয়েছে।

১০ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকাল ১১টার উপজেলার জালকাটা এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। পৌর মেয়র আবু সাঈদকে গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহত অপর ২ জন আজিজুল হক (৪৫) ও নাদের মিয়া (৫০) শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনাটি পুরো এলাকায় তোলপাড় তৈরি করে।

জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে জঙ্গল থেকে বাঘটি গারো পাহাড় থেকে নেমে এসে জালকাটা মহল্লার ফকির আলীর গভীর নলকুপের ঘরে আশ্রয় নেয়। বুধবার সকালে লোকজন বাঘটি দেখতে পায়। খবর পেয়ে সহস্রাধিক লোক ঘটনাস্থলে বাঘ দেখতে যায়। ওইসময় পৌর মেয়র লোকজনের সাথে বাঘ দেখতে গেলে হঠাৎ করেই পৌর মেয়র সাঈদকে আক্রমণ করে এবং মুখের ডান পাশে কামড় দিয়ে গাল ও কানের মাংস উপড়ে ফেলে।

পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয় ২ কৃষকও আহত হয়। এসময় আরও লোকজন গিয়ে বাঘের কবল থেকে মেয়রকে উদ্ধার করে উদ্ধার করে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। আবু সাঈদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে মেয়রের উপর আক্রমণে ক্ষুব্ধ জনতা চিতা বাঘটি পিটিয়ে মেরে পৌরসভার সামনে বাঁশ দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।

শ্রীবরদি থানা পুলিশ মৃত বাঘটিকে উদ্ধার করে পৌর সভায় নিয়ে যায়। বাঘটি সাড়ে তিন ফিট লম্বা। এসময় হাজার হাজার উৎসুক জনতা বাঘটি দেখার জন্য ভিড় জমায়।

এ নিয়ে প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. এবিএম আব্দুর রউফের সাথে কথা হলে তিনি জানান, এটি মেছো প্রজাতির পুরুষ বাঘ। বাঘটি সম্ভবত পাহাড় থেকে লোকালয়ে এসে জালকাটা মহলার ফকির আলীর গভীর নলকুপের ঘরে আশ্রয় নেয়।

সহকারী বন সংরক রেজাউল করিম বলেন, এ অঞ্চলে বাঘ নেই। তবে সীমান্ত এলাকা হওয়ায় ভারত থেকে আসতে পারে।

জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মোবারক হোসেন জানান, মেয়র আবু সাঈদের অবস্থা আশংকাজনক নয়। তবে উন্নত চিকিৎসার জন্যই তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত