০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ০১:২৭
ছবি: সংগৃহীত
টানা কয়েকদিনের তীব্র শৈতপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রংপুর মহানগরীসহ আশপাশের পাঁচ জেলা। হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা। এরই মধ্যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে শীতজনিত রোগ। গত এক সপ্তাহে এই অঞ্চলে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯ জনই শিশু।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৭ শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ছুটে আসছেন নানা বয়সের মানুষ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গত এক সপ্তাহে শীতজনিত জটিলতায় ৯ জন শিশু ও ৭ জন বয়স্ক ব্যক্তি মারা গেছেন। নিহত শিশুদের বয়স ছিল ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে এবং বয়স্কদের বয়স ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে। এই দুই বয়সের মানুষ শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।”
তিনি আরও জানান, গত কয়েক দিনে প্রায় ৩ হাজার শিশু এবং দেড় হাজারের বেশি বয়স্ক মানুষ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিদিনই এ সংখ্যা বাড়ছে।
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার নব্দীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম মিয়া কণ্ঠ ভারী করে বলেন, “আমার দুই বছরের ছেলে মাহিম ইসলাম নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। শনিবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করালেও রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।”
শুধু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালই নয়, রংপুর জেলার আটটি উপজেলা হাসপাতালসহ লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারী জেলার হাসপাতালগুলোতেও শীতজনিত রোগীর ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই শীতের তীব্রতা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ায় রংপুর বিভাগে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। উত্তরের বরফ শীতল বাতাসের কারণে এখানে হাড়কাঁপানো শীত পড়েছে, যা আরও কিছুদিন থাকতে পারে।” খবরের সূত্র : বাংলা নিউজ।
আপনার মন্তব্য