০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৪:০১
লিটন কুমার দাস, মমিনুল হক ও ইয়াসির আলী রাব্বির ব্যাটের স্পন্সর ভারতের কোম্পানি সানস্পাইরেলস গ্রিনল্যান্ডস (এসজি)। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার চলমান তিক্ত সম্পর্কের প্রভাব পড়েছে বাণিজ্যিক চুক্তিতেও। কোম্পানিটি বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি আর নবায়ন করছে না।
এই তিন ক্রিকেটারের এজেন্ট জানায়, এসজি চুক্তি নবায়ন করার পাকা কথা দিয়ে রেখেছিল। ক্রিকেটারদের এজেন্ট বলেছে, চুক্তি ‘বাতিল’ করার কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেনি এসজি কোম্পানিটি।
বাংলাদেশ-ভারতের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দুই দেশের ক্রিকেটে ভালোই পড়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানের মতো আন্তর্জাতিক বোলারকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দলে নেওয়া হয়েছিল তাকে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিলামে বাংলাদেশের সাতজন ক্রিকেটারকে রেখেছিল। সেখান থেকে কেবল মুস্তাফিজকে কিনে নেয় কেকেআর। তার মতো একজন ক্রিকেটারকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া মেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশের মানুষ।
এর জের ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশে বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ নিয়ে দুদেশের মধ্যে বিরাজ করছে ক্রিকেটিয় উত্তেজনা।
বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সোমবার। একই দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) ভারত থেকে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইমেইল করে। তার রেশ ধরে দুই দেশের ক্রিকেটে বয়কটের ঢেউ লেগেছে। ভারতীয় কোম্পানি স্পন্সর বাতিল বা চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো।
ব্যাটের স্পন্সর চুক্তি বাতিল বা নবায়ন না করার কারণ জানতে লিটন কুমার দাসের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। টেস্ট দলের সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক অবশ্য ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি লিটনের ব্যাটের স্পন্সর চুক্তি বাতিল করেছে এসজি। আমাকে এখনও কিছু বলেনি। কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে জানতে পারব।’
দেশে ভারতের ক্রীড়া সামগ্রির বিরাট বাজার। ক্রিকেট, হকির খেলার সামগ্রী দেশটি থেকে আমদানি করা হয়। অল্প কিছু ক্রীড়া সামগ্রী আনা হয় পাকিস্তান থেকে। সম্প্রতি সিএ ব্যাটের বাজার প্রসারিত হয়েছে দেশে। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এই ব্যাটের ব্যবসা করেন।
মোস্তাফিজ ইস্যুতে সৃষ্ট উত্তেজনা দুই দেশের মধ্যে সব ধরনের খেলাধুলায় অস্বাভাবিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করেন বিসিবি কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পরিচালক বলেন,‘এটা ভালো কোনো লক্ষ্যণ না। পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে না ভারত। বাংলাদেশের সঙ্গেও একই কাজ করার পরিকল্পনা করছে। ভারত চুক্তি বাতিল করলে স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প দেশের কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন খেলোয়াড়রা। পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসতে পারে।’
সিলেটে বিপিএল দলের সঙ্গে থাকা ক্রিকেটারদের একটা বড় অংশ এসজি ব্যাট দিয়ে খেলেন। লিটনদের স্পন্সর থেকে সরে গেলে ঢাকায় এসজি কোম্পানির ব্যাট বিক্রিতে ভাটা পড়তে পারে। এই জায়গা দখল নিতে পারে সিএ বা এমকেএস।
আপনার মন্তব্য