নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:১১

কারান্তরীণ ৪ সাংবাদিকের মুক্তির দাবি জানিয়ে সরকারকে চিঠি দিল সিপিজে

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা সিপিজে কারান্তরীণ চার সাংবাদিক ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু এবং শ্যামল দত্তের দীর্ঘকালীন কারাবাস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বৈশ্বিক সংস্থাটি বিএনপিকে তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার স্মরণ করিয়ে দিয়ে আটক সাংবাদিকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই উদ্বেগ জানান।

ইমেইলে প্রেরিত এই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকেও।

সিপিজে তাদের চিঠিতে জানায়, সরকারের প্রথম কয়েক মাসে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়ে উৎসাহব্যঞ্জক সংকেত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের কর্মকাণ্ড থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্য দূরত্ব বজায় রাখাকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার এবং দমনমূলক গণমাধ্যম আইন পর্যালোচনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা সিপিজে-সহ অনেক পর্যবেক্ষকের মনে আশার সঞ্চার করেছিল।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এই চার সাংবাদিককে ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে আটকে রাখা হয়েছে। তবে সিপিজের নথিপত্র, পরিবারের সাক্ষ্য এবং আন্তর্জাতিক আইনি পরামর্শকদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেওয়া হয়নি। সিপিজের মতে, এই মামলাগুলোর ধরন স্পষ্টতই তাদের সাংবাদিকতা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের সাথে জড়িত—যা থেকে বর্তমান সরকার বেরিয়ে আসার অঙ্গীকার করেছিল।

আটক সাংবাদিকদের শারীরিক অবস্থা ও মানবিক বিপর্যয় নিয়ে সিপিজে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জানায়, ফারজানা রূপাকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুই সপ্তাহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিদের জন্য নির্ধারিত ‘কনডেম সেলে’ রাখা হয়েছিল। শ্যামল দত্ত ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আটকের কয়েক দিনের মধ্যেই স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, যা তার পরিবারকে তাৎক্ষণিক জানানো হয়নি। তার হৃদরোগ ও গুরুতর ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’র সমস্যা থাকলেও কারাহেফাজতে কোনো সুচিকিৎসা মেলেনি। ২০২৩ সালের শেষদিকে প্রস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচার হয়েছিল মোজাম্মেল হক বাবুর। বর্তমানে ফলো-আপ চিকিৎসার অভাবে তার ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সিপিজে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তিতে (ICCPR) মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এই চুক্তির অংশীদার এবং সরকার আন্তর্জাতিক মহলেও এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

চিঠির শেষে সিপিজে সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে:
১. ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মোজাম্মেল হক বাবু এবং শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করে তাদের পরিবারের কাছে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হোক।
২. মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে তাদের জরুরি ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক।

সংস্থাটি বিশ্বাস করে, এই চার সাংবাদিকদের মামলার নিষ্পত্তি আন্তর্জাতিক মহলে সরকারের সংস্কারের অঙ্গীকারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য সিপিজে প্রতিনিধিদল এ বছরের শেষদিকে ঢাকা সফরের আগ্রহও প্রকাশ করেছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত