সিলেটটুডে ডেস্ক

১০ মে, ২০২৬ ১৪:২২

‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারে ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় অর্থের ‘অবৈধ’ ব্যবহার: সরকারকে আইনি নোটিস

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচারণায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিএসআর তহবিল এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অবৈধভাবে অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তুলে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার সানাউল্লাহ নূরী গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে এই নোটিসটি পাঠান।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণার জন্য তিনটি সংগঠন—সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেড ফাউন্ডেশন এবং ডিবেট ফর ডেমোক্রেসিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকারদের সংগঠন এবিবি থেকে প্রায় ৩.৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছয়টি মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে এই প্রচারণায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে আরও প্রায় ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

আইনি নোটিসে বলা হয়েছে এসবের মাধ্যমে সিএসআর নীতিমালার লঙ্ঘন করা হয়েছে। কারণ ব্যাংকের সিএসআর নীতিমালা অনুযায়ী এই অর্থ শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জলবায়ু খাতের মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহারের বিধান থাকলেও রাজনৈতিক প্রচারণায় তা ব্যয় করাকে বিদ্যমান ব্যাংকিং আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

এতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ১১ জানুয়ারির এক ব্যাংকার্স সভায় তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের উপস্থিতিতে এই তহবিল বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তীতে এবিবিকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে বড় অংকের অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়।

আইনি নোটিসে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সেড ফাউন্ডেশন শুরুতে নিবন্ধিত না থাকলেও অর্থ বরাদ্দের নির্দেশ পাওয়ার পর দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করে এবং ১ কোটি টাকা গ্রহণ করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি তদন্ত দল পরে উক্ত ফাউন্ডেশনের কোনো স্থায়ী অফিস খুঁজে পায়নি এবং ব্যয়ের নথিপত্রেও অসংগতি পেয়েছে।

নোটিস প্রদানকারী আইনজীবী উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের নির্দেশনায় এবং সম্মতিতে এই ‘দুর্নীতি ও লুটপাট’ সংঘটিত হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় তহবিলের চরম অপব্যবহার।

নোটিসে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, আইন সচিব, তথ্য সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই বিশাল আর্থিক অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায়, সংবিধান ও আইনের শাসন রক্ষায় উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত