দীপ্ত বৈষ্ণব

২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৫৮

ধান চাষে কৃষকের খরচ বেড়ে দিগুণ, বাড়েনি দাম

বৈরি আবহাওয়া, জ্বালানী তেল ও শ্রমিক সংকটে সিলেটের বোরো ধান চাষে খরচ বেড়ে গেছে দিগুণ। তবে ফসলের কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলে ধান চাষ করে এখন লোকসানের শঙ্কায় তারা।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার কৃকেদের সাথে আলাপ করে এমনটি জানা গেছে।

সোমবার সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে আলাপ করলে তারা ধানের দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।

গত সাপ্তাহ থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিনই সিলেট বিভাগে ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। এতে হাওরের নিচু জমিগুলো জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। অনেকের কাটা ধান রোদ না থাকায় নষ্ট হচ্ছে।

এরআগেও ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে বজ্রপাতে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বেশ কয়েকজন কৃষক মারা গেছেন। এতে করে হাওরে ধান কাটা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্কও দেখা দিয়েছে।

এরমধ্যে আছে জ্বালানী তেলের সঙ্কট। ধান কাটার জন্য হারভেস্টার মেশিন চালাতে প্রয়োজন হয় ডিজেলের। কিন্তু হাওর এলাকায় চাহিদামতো ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। যাও মিলছে তাও কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। সবমিলিয়ে বোরো চাষে খরচ বেড়েছে কৃষকের।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বাউসী গ্রামের প্রান্তিক কৃষক প্রসন্ন কুমার জানান, এবছর ফাল্গুন মাস থেকেই লাগাতার বৃষ্টি। হাওরে জলাবদ্ধতায় ধান কেটে গোলায় তুলতে ডাবল খরচ গুণতে হচ্ছে। রোদ না থাকায় শত শত মন ধান খলায় (ধান শুকানোর জায়গা) নষ্ট হচ্ছে। অথচ এবার ধানের দাম খুবই। কৃষককে পথে বসতে হবে।

দিরাই উপজেলার আরেক কৃষক আব্দুল কাইয়ুম বলেন, "বাজারে ৮০০ টাকা দরে ধান কিনছে মিল মালিকেরা। এদিকে বোরো ধান কাটতে একজন শ্রমিককে মুজুরি দিতে হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকা। হাওরে পানি জমে যাওয়া ও রাস্তা মাঠ সব খারাপ অবস্থা। এ অবস্থায় প্রতি কের (২৮ শতক) জমি কেটে ধান গোলায় তুলতে লোক লাগবে কমপক্ষে ৮ জন।

হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ফলন হবে কের প্রতি সর্বোচ্চ ২০ মন। তাহলে গিরস্থি করে শুধু লস। হয়তো বাড়িঘর বিক্রি করতে হবে।

সিলেট সদর সংলগ্ন নালিয়ার কৃষক শামসুল আলম জানান, লাগাতার বৃষ্টির কারনে ধান পাকছে না। মাঝে মধ্যে রোদ না হলে অবস্থা বেগতিক।

সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলার বিভিন্ন হাওরের কৃষকদের সাথে কথা বলা জানা গেছে, এবছর অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন দূরাবস্থায় কৃষকদের যা ফলন হবে এতে খরচের অর্ধেক পয়সাও উঠবে না।

সিলেট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক উপ-পরিচালক হিসেবে মো. শামসুজ্জামান জানান, সিলেটে এ পর্যন্ত মোট বোরো ধানের ৫৮ শতাংশ কাটা হয়েছে। তিনি বলেন,' আবহাওয়া ভালো হলে আগামী ৮-১০ দিনে সব ধান কর্তন হবে বলে আশা করছি।

তিনি জানান, বর্তমানে ধানের সরকারী দর ১৪৪০ টাকা মন। তবে মে মাসের প্রথম সাপ্তাহ থেকে ধান কেনা শুরু হবে।

'হাওর নদী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন' সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মো. মেকদাদ বলেন উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধান চাষ করে এবছর লোকসান আছে। সরকার যখন ধান চাল কেনে, তখন দরিদ্র কৃষকরা সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারে না। বরং মিল মালিক ও মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়। সরকার ধানের চেয়ে চাল বেশি কিনে। মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের দাপটে কৃষকরা কোণঠাসা হয়ে যায়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত