২৭ জুলাই, ২০২৬ ২১:২০
প্রতীকী ছবি
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে অন্তত ৮৬ শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি মেয়ে ও ৩৬টি ছেলে এবং তিন শিশুর লিঙ্গপরিচয় জানা যায়নি। শিশুদের নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘শিশুরাই সব’-এর অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। আজ সোমবার গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটি পাঠায় সংগঠনটি।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়সীমায় ৩৩৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২৭টি মেয়ে ও ২৪টি ছেলে এবং ১৮৫টির লিঙ্গপরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৫ সালে পুরো বছরে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ৩০৮ শিশু।
এই প্রতিবেদনে মানুষের হাতে খুন হওয়া ও যেকোনো ধরনের নির্যাতনের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শিশুদের কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে শিশুহত্যা বেড়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ৮৬ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। ২০২৫ সালে পুরো বছরে মোট শিশুহত্যা হয়েছিল ১২৪টি। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১৪টি শিশুহত্যার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২০২৫ সালে এই গড় ছিল ১১টি।
জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শিশুদের মধ্যে মেয়ের সংখ্যা ছেলেদের তুলনায় বেশি। মোট ৮৬ শিশু নিহতের মধ্যে ৪৭টি মেয়ে ও ৩৬টি ছেলে, তবে তিন শিশুর লিঙ্গপরিচয় জানা যায়নি।
ভৌগোলিক অবস্থানের বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে গ্রামে, যেখানে মূলত রাগ বা ক্রোধ, ধর্ষণ এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতন প্রধান কারণ হিসেবে দেখা যায়। অন্যদিকে, শহরাঞ্চলে সংঘটিত শিশুহত্যার ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ ও সোনা লুট প্রধান কারণ।
বিভাগ হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিশুহত্যা হয় ঢাকায়—২২টি। এ ছাড়া সিলেট ও বরিশালে ছয়টি করে শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়, যা বিভাগগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
বয়সভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি (৪৬টি) হত্যার শিকার হয়।
অপরাধীদের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুহত্যা এমন ব্যক্তিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে, যারা শিশুর পরিচিত ছিল। বাবা-মা, সৎবাবা-সৎমা, নিকটাত্মীয়সহ পরিবারের বিভিন্ন সদস্য এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। মোট নিহতের মধ্যে ১৭টির (প্রায় ৩৪ দশমিক ১২ শতাংশ) হত্যাকাণ্ডে মা-বাবা ও ১১টিতে নিকটাত্মীয় জড়িত। প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তিরা ২৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী। অর্থাৎ, অর্ধেকের বেশি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত মানুষ জড়িত।
প্রতিবেদনে শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিশুরাই সব সংগঠনটি কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিচারব্যবস্থাকে দ্রুত, কার্যকর ও শিশু সংবেদনশীল করা; সরকারের দায়িত্ব শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়া; শিশু নির্যাতন মামলাগুলো দ্রুত বিচারের আওতায় আনা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। একই সঙ্গে নির্যাতিত শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, মানসিক সহায়তা, আইনি সেবা ও পুনর্বাসনের সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আপনার মন্তব্য