২৭ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৪১
সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের আলোচিত ভিডিও নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে শিক্ষা প্রশাসন। সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভিডিওর তদন্ত করার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে শিক্ষা প্রশাসন।
এ ঘটনায় আর তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে না বলে সোমবার বিকেলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ। এরআগে সোমবার সকালে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোরে ‘‘বিউটির ভিডিও: 'অন্যায় মনে করেন না' শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, তবু তদন্ত করতে চায় শিক্ষা বিভাগ’’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বিকেলে সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ সিলেটটুডেকে বলেন, আমরা ভিডিওর বিষয়টি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, গতকাল মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন, ‘এ ঘটনায় অন্যায় কিছু দেখছেন না’। আমরা প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নিয়ে ভিডিওর ঘটনায় অন্যায় কিছুই পাইনি। তাই খামাখা এই ঘটনায় আর তদন্ত কমিটি করে কী লাভ? আর কোন কমিটি গঠন হবে না।
সম্প্রতি বৃষ্টির গানের সাথে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে একটি গোষ্ঠীর তোপের মুখে পড়েন সিলেটের স্কুল শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। ফেসবুকে তাকে নিয়ে ট্রল-হেনস্তা করছেন কেউ কেউ। এমনকি ভিডিও করার কারণে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ এই স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি ওঠে।
তবে এমন পরিস্থিতিতে বিউটি পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন তার সহকর্মীসহ নানা পেশার মানুষজন। অভিনব পন্থায় বিউটি পালকে নিয়ে ট্রলের প্রতিবাদ জানাচ্ছে সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষকসহ নানা পেশার মানুষ। বিউটি পালের সাথে সংহতি জানিয়ে ফেসবুকে গানের সাথে নিজের ভিডিও আপ করছেন তারা।
বিউটি রানী পাল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।
বিউটি রানী পালের ফেসবুক ঘেঁটে দেখা গেছে, তিনি প্রায়ই নিজের ফেসবুক একাউন্টে তার বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়া, বাচ্চাদের শরীর চর্চা করানো, শিশুদের নাচ গানের মাধ্যমে গণিতের বিভিন্ন চিহ্নসহ পাঠ্য বইয়ের বিভিন্ন পড়া শেখানো, শিক্ষাদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করার ভিডিও আপ দিতেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিফারেন্ট টাচ ব্যান্ডের মেজবার গাওয়া ‘আজ কেন মন, উদাসী হয়ে’ গানের সঙ্গে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওতে তিনি স্কুল প্রাঙ্গণে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। সুন্দর শাড়ি পড়ে পরিপাটি অবস্থায় ভিডিও পোস্ট নিয়ে সমালোচনা ও ট্রল শুরু করে একটি গোষ্ঠী।
রোববার এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল মোল্লা বলেছিলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আলোচনা হয়েছে। তদন্ত শেষে দেখা হবে কোনও ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে কিনা। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এক কর্মশালায় অতিথি হিসেবে রোববার বিকেলে সিলেট সফরে আসেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। কর্মশালা শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ভিডিওটি দেখিনি। আমার সেশ্যাল মিডিয়াও নেই। তবে কয়েকজন আমাকে বলেছেন, ‘একজন শিক্ষিকা গান গেয়ে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। এটিতে কোন অশ্লীলতা নেই।’ গান গাওয়াকে আমি অন্যায় মনে করি না। এটি কেউ মানুক বা না মানুক, আমি অন্তত তা মনে করি না।
আপনার মন্তব্য