নিউজ ডেস্ক

২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২১:৪৫

পুরোহিতকে গলা কেটে হত্যা: ‘প্রত্যক্ষদর্শীকে দেখেই গুলি চালায় ওরা’

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের সন্তগৌরীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়ের খুনের প্রত্যক্ষদর্শীকে দেখামাত্র তাকেও দুর্বৃত্তরা গুলি করেছে।

হাতে গুলি লাগলেও প্রাণে বেঁচে যান হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী গোপাল রায় (৩৫)। তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর অর্থোপেডিকস ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (২১ ফেব্রুয়ারী) সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে করতোয়া নদীর পশ্চিম পাড়ের সন্তগৌরীয় মঠের অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বর রায়কে (৫০) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

ওই সময় তিনি পূজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হামলাকারীদের গুলি ও বোমায় গোপালসহ দুজন আহত হয়েছেন।

গোপাল বলেন, মঠের গুরুজীর শরীর ভালো না। সকালে মঠের রান্না ঘরে তার জন্য রুটি বানাচ্ছিলেন তিনি। ওই সময় গুরুজীর সুস্থতা কামনায় গুণগুণ করে কীর্তন গাইছিলেন।

'সকাল ৬টা কী সাড়ে ৬টা হবে। এমন সময় গুরুজীর আর্তচিৎকার শুনতে পাই। ভাবলাম তিনি হয়ত আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরপর আবার চিৎকার।'

দ্রুত রান্না ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে পান দু'জন লোক। তাদের পরনে প্যাণ্ট ও জ্যাকেট। জ্যাকেটের টুপি দিয়ে মাথা ঢাকা, বলেন গোপাল।

'আমাকে দেখামাত্র ওই দুই ব্যক্তি কোমর থেকে পিস্তল বের করে বলতে থাকে, ওই ঘরে যাবি তো তোকেও কতল করব। তোর গুরুজীকে কতল করা হয়েছে।'

'তোরা বড় আনন্দে আছিস। রান্না ঘরে কীর্তন গাইছিলি-একথা বলেই আমার বুক বরাবর গুলি ছুড়তে থাকে ওরা।' গোপাল বলেন, তার বাম হাতে দুটি গুলি লাগে। এরপরও তারা গুলি করতে থাকে।

'ভাবছিলাম আমি আর বাঁচব না। কিন্তু তাদের পিস্তল থেকে গুলি আর বের হচ্ছিল না। তখন তারা পিস্তলে গুলি ভরার জন্য পকেট থেকে গুলি বের করছিল। এই ফাঁকে আমি মঠের একটা দেয়াল টপকে পার হয়ে চিৎকার করতে থাকি।'

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিছানায় কাতরাতে কাতরাতে তিনি ঘটনার বর্ণনা দেন।

দেওয়াল টপকে যাওয়ার পর কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান বলে জানান গোপাল।

গোপাল বলেন, পরে জানতে পারি তারা তিনজন ছিল মোটরসাইকেলে। এর মধ্যে একজন মঠের বাইরে পাকা রাস্তায় মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষায় ছিল, বলেন তিনি।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তার বাম হাতের কনুইয়ের পাশে দুই জায়গায় ক্ষত রয়েছে। তবে গুলি পাওয়া যায়নি। আমরা রোগীর ভাষ্যমতে ব্যবস্থাপত্রে ‘গানশট’ ইনজুরি বলেছি।

তার হাতকে রক্ষা করতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আমরা এখানে দুই দিন দেখব। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।

হাসপাতালে গোপালের পাশে থাকা স্ত্রী কুন্তী রানী রায় বলেন, 'ভগবান আমার স্বামীকে বাঁচিয়েছে। তার সুস্থতার জন্য আপনারা আশীর্বাদ করুন।'

আপনার মন্তব্য

আলোচিত