সিলেটটুডে ডেস্ক

২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ ২২:৪৬

‘অভিজিৎ হত্যাকারীদের অনুপস্থিতিতেই বিচার হতে পারে’

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারীদের ধরা সম্ভব না হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তার বাবা শিক্ষাবিদ ড. অজয় রায়।

শুক্রবার বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। 'অভিজিৎরা হারলে বাংলাদেশ হারবে' স্লোগান সামনে রেখে 'মুক্তচিন্তায় আঘাত, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ ও আমাদের করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজন করে গণজাগরণ মঞ্চ।

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশের ফুটপাথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়। এ সময় তার স্ত্রী রাফিদা হক বন্যা গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

শুক্রবারের আলোচনা সভায় ড. অজয় রায় বলেন, বিক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য হিসেবে আমি আশা করি সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থা এবং সরকার হত্যাকারীদের বিচারে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করে অচিরেই হত্যাকারীদের ধরতে সক্ষম হবে এবং আদালতে বিচারের সম্মুখীন করাবে। অভিজিতের হত্যাকারীদের যদি ধরা সম্ভব না হয় তাহলে তাদের অনুপস্থিতিতেই আদালতে বিচার সমর্থন করা যেতে পারে।

আলোচনা সভায় মানবাধিকার কর্মী ও নারীনেত্রী খুশি কবীর বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে, এই বাংলাদেশ মুক্তচিন্তার জায়গা, আমরা মুক্তচিন্তার চর্চা করে যাব, মুক্তচিন্তার চর্চা এ দেশে অব্যাহত থাকবে।

বাংলা একাডেমির সমালোচনা করে খুশি কবীর বলেন, অভিজিৎ হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেল,  বইমেলা চলছে অথচ বাংলা একাডেমিতে কোনো আলোচনা সভা হয় না। এর কারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি ঢুকানো হয়েছে।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার বলেন, জঙ্গিবাদীদের আক্রমণের আশঙ্কা সত্ত্বেও অভিজিৎ রায় সকল পেশাজীবী ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য এবং সব ধরণের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লেখনি ধরে গেছেন। যে সকল মুক্তচিন্তার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে আমরা সবাই জানতে পারছি কারা এই সকল হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে কিন্তু আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা জানতে পারছে না। তাহলে কি আমরা ধরে নেব সরকারের ভেতরে থেকেই কোনো গোষ্ঠী এই জঙ্গিবাদীদের মদদ দিচ্ছে?

ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে একটি 'মানবিক রাষ্ট্রে' পরিণত করার জন্য জঙ্গিগোষ্ঠীর ভয়ে পিছু না হটে বরং তাদেরকে সামনে থেকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভা শেষে একটি মিছিল নিয়ে টিএসসিতে এসে অভিজিৎ রায় স্মরণে নির্মিত বেদিতে আলোক প্রজ্বলন করেন গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। এর আগে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিজিৎ রায় স্মরণে নির্মিত বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত