২৪ এপ্রিল, ২০১৬ ২১:৩৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকাণ্ডে আইএসের দায় স্বীকারের খবরটি ভুয়া বলেই মনে করছে বাংলাদেশ পুলিশ।
বাংলাদেশে এর আগে বিদেশি খুন এবং খ্রিস্টান ও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের উপর হামলার ঘটনায়ও মধ্যপ্রাচ্যের এই জঙ্গি গোষ্ঠীর দায় স্বীকারের বার্তা এলে এই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল পুলিশ।
শনিবার রাজশাহী নগরীতে বাড়ির কাছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক রেজাউল করিমকে কুপিয়ে হত্যার পর আগের মতোই সাইট ইন্টিলিজেন্স গ্রুপের ওয়েবসাইটে আইএসের দায় স্বীকারের খবর দেওয়া হয়।
এর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পুলিশের নবগঠিত কাউন্টার টেরেরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলামও আগের মতোই রোববার সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশে আইএসের কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। বিভিন্ন ঘটনায় তারা দায় স্বীকার করে যে বক্তব্য দেয়, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।”
গত বছরের শেষ দিকে বিদেশি হত্যাকাণ্ডে আইএসের দায় স্বীকারের বার্তা প্রথম আসে। তার আগে আইএস সদস্য সন্দেহে বাংলাদেশে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের দাবি পুলিশের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল।
মনিরুল বলেন, “দুই-একজন বিচ্ছিন্নভাবে আমাদের প্রবাসী বাঙালি হয়ত আইএসে যোগ দিয়েছে। প্রবাসী বাঙালিরা বিভিন্ন দেশ থেকে সেখানে গিয়ে তাদের কেউ ওখানে নিহত হয়েছে।
“ফলে মনে হয়, আগামীতে যে কোনো খুনের ঘটনা বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায়ও আইএস দায় স্বীকার করবে। কারণ ভার্চুয়াল দায় স্বীকার করতে তো তথ্য প্রমাণ বা যুক্তির দরকার হয় না।”
বাংলাদেশে যেসব ঘটনায় আইএসের দায় স্বীকারের ‘বায়বীয়’ বার্তা এসেছে, তার তদন্তে এই জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ মেলেনি বলে জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
“কোনো কোনো ক্ষেত্রে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে, পুলিশের তদন্ত শেষ হয়েছে। গ্রেপ্তারদের কেউ স্বীকার করেনি, তারা কথিত আইএস বা আল কায়েদার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক আছে।”
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ব্লগার, অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট, বিদেশি, পুরোহিত-যাজক, আহমদিয়া, শিয়াদের উপর হামলায় বাংলাদেশি জঙ্গিরা জড়িত বলে পুলিশের দাবি।
তবে এসব মামলায় অনেককে গ্রেপ্তার করা হলেও তিন বছর আগের আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ড ছাড়া আর একটিতেও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ।
আপনার মন্তব্য