সিলেটটুডে ডেস্ক

২৮ এপ্রিল, ২০১৬ ১৫:৩০

১৬৪৩০ নম্বরে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন

দুঃস্থদের আইনি সহায়তা দিতে জাতীয় হেল্পলাইনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এখন থেকে ১৬৪৩০ নম্বরে ডায়াল করে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিতে পারবেন দরিদ্র ও দুঃস্থরা।

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে এই সেবামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, এই হেল্পলাইনে ফোন করে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাবেন দেশের স্বল্প আয়ের ও অসহায় বিচারপ্রার্থী নাগরিকরা।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু মানুষ বিচার পান না, অনেকে মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ধরে কারাগারে পড়ে আছেন। তাদের কল্যাণেই জাতীয় আইনগত সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এসব বন্দীদের তালিকা করে আইনি সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মামলার জট নিরসনে অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার হেল্প লাইন কল সেন্টারে ফোন করে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানতে চান।

শেখ হাসিনা বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ বলেই জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

দুটি প্রতিষ্ঠানই সমাজে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ‘উল্লেখযোগ্য অবদান’ রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“নাগরিকরা যেন অন্যায়, অবিচার ও বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি পায়, সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা করে যাচ্ছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আধুনিক বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থেকেই ২০০৯ সালে তার সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন করেছিল।

“আমাদের বিচার বিভাগ যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, এর মাধ্যমে সেটা আমরা সুনিশ্চিত করে দিয়েছি।”

বিচারে দীর্ঘসূত্রতা নিরসনের পদক্ষেপ গ্রহণ, বিভিন্ন আইনের সংস্কার এবং আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ‘বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কেন্দ্রস্থল’ প্রতিষ্ঠার কথাও তিনি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন।

প্রত্যেক জেলায় লিগ্যাল এইড অফিস স্থাপন এবং লিগ্যাল এইড অফিসারের পদ সৃষ্টি করে বিচারকদের এসব পদে নিয়োগ দেওয়ার কথাও তিনি মনে করিয়ে দেন।

কারা পাবেন বিনামূল্যে আইনি সেবা?
আর্থিকভাবে অসচ্ছল যে কোনো ব্যক্তি, যার বার্ষিক গড় আয় পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি নয়, কর্মক্ষম নন বা আংশিক কর্মক্ষম, কর্মহীন বা ৭৫ হাজার টাকার নিচে বার্ষিক আয়- এমন মুক্তিযোদ্ধা, সরকারের বয়স্ক ভাতা পান- এমন ব্যক্তি এবং ভিজিডি কার্ডধারী দুঃস্থ মায়েরা আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার সাহায্য পেতে পারেন।

২০০৯ সাল থেকে ২০০১৪  পর্যন্ত সময়ে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৮৮ জন এই সংস্থা থেকে আইনি সহায়তা নিয়েছেন বলে সরকারের তথ্য।   

আপনার মন্তব্য

আলোচিত