১৪ মার্চ, ২০১৭ ১৯:২৮
বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়াকে ‘দালাল নির্ভর’ উল্লেখ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত টিআইবির এ প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
গত বছর বাংলাদেশি পুরুষ কর্মীদের বিদেশ যেতে ঘুষ দিতে হয়েছে; টিআইবির এমন প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, “মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে টিআইবি ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।”
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সকালে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে রিপোর্টার্স ফর বাংলাদেশি মাইগ্র্যান্টস (আরবিএম) এর সাথে ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
গত ৯ তারিখ প্রকাশিত টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর বিদেশ যাওয়া প্রায় পাঁচ লাখ পুরুষ কর্মীর প্রায় ৯০ শতাংশকেই দুই থেকে তিনগুণ বেশি টাকা দিয়ে ভিসা নিতে হয়েছে। দেশ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশসহ সাতটি দেশে কর্মী পাঠানোয় এই অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোয় গন্তব্য দেশের ভিসা আবেদন অনুমোদন করাতে ও মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন স্তরে ঘুষ দিতে হয়েছে তাদের।
এই সেক্টরে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যর অভিযোগ সম্পর্কে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, “কিছু মানুষ যারা আমার কাছে সুবিধা করে উঠতে পারেননি তারাই মালয়েশিয়া গিয়ে সিন্ডিকেট করেছেন।”
বিদেশগামী কর্মীরা মন্ত্রণালয়ে কোন ধরনের হয়রানির শিকার হননা বলে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শামসুন নাহার দাবি করেন।
প্রতিবেদনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, ‘গন্তব্য দেশের ভিসা গ্রহণ থেকে শুরু করে বাংলাদেশে বিএমইটি থেকে বহির্গমন ছাত্রপত্র পাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে দালালের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন শ্রমিকরা।’
টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে অবৈধ ভিসা বিক্রি, প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চাহিদাপত্র তৈরি, ভিসা কেনা বাবদ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার, ভিসা বিক্রি বা চাকরির ধরন বা বেতন সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য অভিবাসনকর্মীদের না জানা, স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়, পুলিশ ছাড়পত্রে নিয়ম বহির্ভূত অর্থ আদায়, ভিসা স্টাম্পিংয়ে অর্থ আদায়-হয়রানি, ডেটাবেজ থেকে কর্মী না নিয়ে দালাল দিয়ে কর্মী সংগ্রহসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আপনার মন্তব্য