সিলেটটুডে ডেস্ক

০৯ জুলাই, ২০১৫ ০৫:১৮

মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুবের লাশ ঢাকায় দাফনের শেষ ইচ্ছা পূরণ হলো না

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের ‘গলধাক্কা খেয়ে’ অপমানে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খান তাঁর সুইসাইড নোটে তাঁর মৃত্যুর পর লাশ ঢাকায় দাফনের জন্যে অনুরোধ জানান। তবে ঢাকায় তাঁর লাশ দাফন হয়নি, পূরণ হয়নি শেষ ইচ্ছাটুকু।

গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর তোপখানা রোডের হোটেল কর্ণফুলীর একটি কক্ষ থেকে আইয়ুব খানকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। হোটেলের ওই কক্ষ থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়।

এতে লেখা রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান ‘গলাধাক্কা দিয়ে অপমান করে বের করে দেওয়ায় আমি আত্মহত্যা করলাম।’ পুলিশ ধারণা করছে, কীটনাশক পান করে আইয়ুব আত্মহত্যা করেন।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুবকর সিদ্দিক বলেন, হোটেল কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া আইয়ুবের কাগজপত্রের সঙ্গে তাঁর লেখা চিঠির মিল রয়েছে। তারপরও বিষয়টি নিশ্চিত হতে এই চিঠিটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হস্তলিপি বিশারদের কাছে নিরীক্ষা করানো হবে।

তিনি বলেন, এই চিঠির বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ও হোটেল কর্ণফুলীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ওসি বলেন, গত মঙ্গলবার রাতে আইয়ুব খানের মামাতো ভাই ব্যবসায়ী আমির হোসেন শাহবাগ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। তাঁর ভিসেরা পরীক্ষার জন্য মহাখালীর রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের জব্দ করা ওই চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট ঘোষণার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নানকে দুবার মাছ, শুঁটকি ও টাকা দিয়েছি। ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর তাঁর বাসায় যাই। ওই টাকা ফেরত চাইলে তিনি আমাকে গলাধাক্কা দিয়ে বাসা থেকে অপমান করে বের করে দেওয়ায় হোটেল কর্ণফুলীতে আমি আত্মহত্যা করলাম।’

চার পৃষ্ঠার এই চিঠিতে আইয়ুব খান একই বক্তব্য কয়েকবার লিখা ছিল। প্রতিটি পৃষ্ঠায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিটের নামে সিল ও সদস্যসচিবের স্থলে তাঁর সই রয়েছে। চিঠির দুটি অংশে ঢাকার জেলা প্রশাসক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের বরাবরে আইয়ুব খান লেখেন, ‘তার লাশটা যেন ঢাকায় দাফন করা হয়।’

মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব খানের শেষ ইচ্ছা ঢাকায় লাশ দাফনের কথা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার সকালে আইয়ুব খানের লাশ তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মরফলায় নেওয়া হয়। জানাজা শেষে পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত