সিলেটটুডে ডেস্ক

০৯ জুলাই, ২০১৫ ১৭:১০

এলজিআরডি মন্ত্রণালয় হারিয়ে সৈয়দ আশরাফ এখন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে জানা গেছে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এখন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন। বৃহস্পতিবার এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) একনেক সভার পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে তার মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার গুঞ্জন দিনভর ছড়ালেও সৈয়দ আশরাফ সে গুজবে কান না দিতে সাংবাদিকদের পরামর্শ দিয়েছিলেন, এবং মন্ত্রী পরিষদ সচিব এমন কোন সংবাদ জানেন না বলেও জানিয়েছিলেন।

অবশেষে সে গুজবের একদিন পর মন্ত্রী আশরাফুল ইসলামকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দপ্তরবিহীন করে রাখা হয়। সৈয়দ আশরাফ বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে। 

মন্ত্রীপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও মন্ত্রী থাকছেন সৈয়দ আশরাফ। তবে তার কোনো দপ্তর থাকছে না। আশরাফ বাদ পড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে এসেছেন শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা হোসেন পুতুলের শ্বশুর খন্দকার মোশাররফ।

এই মন্ত্রণালয়ের অধীন রুরাল ওয়ার্কার্স প্রোগ্রামের প্রথম প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোশাররফ এলজিইডি বিভাগ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব পেলেও তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর শেখ হাসিনার সরকারে স্থান হয় খন্দকার মোশাররফের। ২০০৯ সালের মন্ত্রিসভায়ও তিনি শুরু থেকে রয়েছেন। গত বছরের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর দলে তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত আশরাফের বাদ পড়ার মধ্য দিয়ে কার্যত প্রথম পরিবর্তন এল।

এতে আশরাফকে অব্যাহতি দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও মন্ত্রিপরিষদ সচিব কোনো খবর না থাকার কথা জানান। এরপর আশরাফ তার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জে সাংবাদিকদের বলেন, কোনো গুজবে কান দেবেন না।

গত সাত বছর ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সামলে আসা ৬৩ বছর বয়সী সৈয়দ আশরাফ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদেও রয়েছেন প্রায় একই সময় কাল।

২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বন্দি হওয়ার প্রেক্ষাপটে দলে সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ভার আসে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী সৈয়দ নজরুলের ছেলে আশরাফের উপর।

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনার সরকারে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আশরাফ। ২০১৪ সালে শেখ হাসিনা পুনরায় সরকার গঠন করলে দলের সাধারণ সম্পাদককে একই মন্ত্রণালয়ই দেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সাধারণ সম্পাদককে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বটি দিতে স্বচ্ছন্দ। এর আগে শেখ হাসিনার সরকারে জিল্লুর রহমানও একইভাবে এই মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। বিএনপির ক্ষেত্রেও একই বিষয় দেখা যায়।

কিশোরগঞ্জের সংসদ সদস্য আশরাফ ছাত্রজীবনে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জেলখানায় সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর লন্ডনে চলে যান আশরাফ। সেখানে আওয়ামী লীগে সক্রিয় ছিলেন তিনি।

১৯৯৬ সালে দেশে ফিরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনার ওই সরকারে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হন আশরাফ। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিটি সংসদ নির্বাচনেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি।

আপনার মন্তব্য

আলোচিত