২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২১:২৭
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি জঙ্গি ঝুঁকিমুক্ত নয়। আমরা জঙ্গিবাদকে নির্মূল করতে পারিনি, তবে অনেকদূর এগিয়েছে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে জনগণের শক্তিই প্রধান শক্তি।
বৃহস্পতিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে আয়োজিত মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইজিপি।
জঙ্গি দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশে গত দুই বছরে জঙ্গিবাদের তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার ঘটনাগুলো ছিল এ দেশের কিছু লোকের নিজস্ব মতাদর্শের সৃষ্টি। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জঙ্গি হামলাগুলো ছিল বৈশ্বিক।
মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের শত্রু উল্লেখ করে জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, এসবের সঙ্গে কেউ জড়ালে এমনকি কোনো পুলিশ সদস্যও যদি এতে উসকানি দেয় তবে তার রক্ষা নেই। তিনি বলেন, একজন পুলিশ সদস্য ১২০০ থেকে ১৪০০ মানুষের নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য কমিউনিটি পুলিশ ব্যবস্থার ওপর আমরা জোর দিয়েছি। পোশাকধারী পুলিশের সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশ একযোগে কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সমাজের এসব অপরাধ দমনে তিনি সচেতন জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে এসে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সংবাদকর্মীরা জঙ্গি দমন অভিযানকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন উল্লেখ করে তাদের ধন্যবাদ জানান আইজিপি। ভবিষ্যতে তাদের সহায়তা পেলে বাংলাদেশ একদিন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদমুক্ত হয়ে উঠতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে আইজিপি মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবিরোধী র্যালিতে যোগ দেন। তাঁর উপস্থিতিতে সাতক্ষীরার ৫০০ মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করে জানান, তাঁরা আর কখনো মাদকের সঙ্গে জড়াবেন না। তাঁদের তিনি শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে তিনি জেলা পুলিশের জব্দ করা মাদক ধ্বংস কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নির্ভয়ে এই উৎসব পালন করবে।
পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে আয়োজিত মাদক ও জঙ্গিবিরোধী সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুনসুর আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের উপ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) দিদার আহমেদ, নৌ পুলিশের ডিআইজি মারুফ হাসান, শিল্প পুলিশের ডিআইজি মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ইফতেখার হোসেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোশাররফ হোসেন মশু, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, পৌর মেয়র তাজকিন আহমেদ, তালা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, কলারোয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ স্বপন প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য